তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে: সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক

· Prothom Alo

ভারতের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তারেক রহমানের সফর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

সোমবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী। সমাধানের জন্য বহু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। তিস্তা নদী ইস্যুটি (পানিবণ্টন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, তবে পরবর্তী সময়ে কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো যায়নি।’

Visit asg-reflektory.pl for more information.

সাবেক জ্যেষ্ঠ এই ভারতীয় কূটনীতিক বলেন, ‘আমি মনে করি রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতেও বাংলাদেশ সমানভাবে আগ্রহী। তারা চায় ভারত যেন এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন ছাড়া ভারতের আর তেমন কিছু করার নেই। কারণ, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শুনতে পারে। আর আমার মনে হয়, বাংলাদেশ পক্ষ এই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হওয়াকে কাজে লাগিয়ে সেসব সমস্যা সমাধানে ভারতের ইতিবাচক প্রভাব বা কূটনৈতিক ভূমিকা ব্যবহারে অনুরোধ জানাতে আগ্রহী।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নতুন নেতৃত্বের ওপর আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিদ্যা ভূষণ সোনি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারেক রহমান অনেকটাই উদার মানসিকতার মানুষ...। তিনি ভারতবিরোধী নন এবং ভারতবিরোধী হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায় নিজের মুখ থেকে এমন একটি বক্তব্যও তিনি দেননি। তাই ভারত সতর্কতার সঙ্গে সম্ভাবনার সেই দ্বার উন্মোচনের চেষ্টা করছে।’

বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেন, ‘এসব কিছু বলা সত্ত্বেও এগুলো দুই পক্ষেরই অফিশিয়াল মুখপাত্রদের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য। তবে রাজনীতিবিদেরা কথা বলেননি। তাই আমার মনে হচ্ছে যে এখন পর্যন্ত তাঁর (তারেক রহমান) আসার একটি সুযোগ রয়েছে। আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।’

বাংলাদেশ–ভারত যোগাযোগের বর্তমান সুযোগটি হাতছাড়া হতে দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন বিদ্যা ভূষণ সোনি। তিনি বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) যদি না আসেন, তবে সম্ভাবনার সেই দ্বার রুদ্ধ হয়ে যাবে; যোগাযোগের পথ দীর্ঘ সময়ের জন্য খোলা থাকবে না। ফলে ওই সুযোগটি তারা কিংবা আমরা কেউই হাতছাড়া করতে চাই না। তাই আমি বেশ আশাবাদী।’

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লি ও ঢাকার কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সক্রিয় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম গত রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি এ কথাও বলেছেন যে, ‘আমরা মনে করি এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।’ বাংলাদেশের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো দিল্লির আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।

সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

Read full story at source