পাঠের আলোয় ফিরে দেখা অতীত
· Prothom Alo

বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ নিয়ে পাঠচক্র করেছে কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা। ৮ আগস্ট বিকেলে শহরের জেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘হাজার বছর ধরে’ মূলত গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, তাদের দারিদ্র্য, সামাজিক বাস্তবতা, কুসংস্কার, ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক টানাপোড়েন, প্রেম-বিরহ ও জীবনসংগ্রামের এক গভীর চিত্র তুলে ধরে। উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্র ও ঘটনার মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কীভাবে একই ধরনের সামাজিক সংকট ও বঞ্চনা মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে নারীর অসহায়ত্ব, বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়গুলো উপন্যাসটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
Visit newsbetting.cv for more information.
পাঠচক্রে ‘হাজার বছর ধরে’ নামকরণের তাৎপর্য, চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব এবং উপন্যাসে প্রতিফলিত গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বর্তমান সময়ের বাস্তবতার মিল-অমিল নিয়ে আলোচনা করা হয়। সহসভাপতি নাজমুল হক বলেন, ‘বইটির মধ্যে আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের নানা সংকট ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি রয়েছে। বইটি পড়ার মধ্য দিয়ে আমরা অতীতের সমাজকে যেমন জানতে পারি, তেমনি বর্তমান সমাজকেও নতুন করে ভাবার সুযোগ পাই।’
জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’।সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জহির রায়হান এই উপন্যাসে সাধারণ মানুষের জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। দারিদ্র্য, কুসংস্কার, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর প্রতি অবহেলার যে চিত্র উঠে এসেছে, তার অনেক কিছুই এখনো আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে বিদ্যমান। তাই নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি এ ধরনের বই নিয়ে আলোচনা করাও জরুরি।’
দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক উমর নাসিফ বলেন, এই উপন্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের জীবনসংগ্রাম। প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষ কীভাবে টিকে থাকে, সম্পর্ক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে কীভাবে লড়াই করে লেখক তা অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন। ‘হাজার বছর ধরে’ আমাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও গভীর করতে পারে।
সহসভাপতি, কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা