পুকুর থেকে নিখোঁজ কাস্টমস কর্মীর ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার, কেয়ারটেকার নিখোঁজ

· Prothom Alo

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিখোঁজের ৯ দিন পর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ব্যাগ ও একটি বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের টুকরাগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ থাকা রাকিব রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকারকে (দেখভালকারী) ঘিরে সন্দেহের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

Visit mchezo.co.za for more information.

আজ রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব রায়হান ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তাঁর মা রাহেলা খাতুন। রাকিব ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাকিব বিবাহিত হলেও কয়েক বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। তিনি প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরতেন। গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসেন। সেদিন রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়। পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রাকিব একই এলাকায় আলাদা বাড়িতে থাকতেন। বাড়িটি দেখাশোনার জন্য একজন কেয়ারটেকার নিয়োজিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। কিন্তু ২৬ জুলাই কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তাঁরা নিশ্চিত হন যে তিনি নিখোঁজ। এ সময় তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ২৭ জুলাই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির পরদিন, ২৮ জুলাই থেকে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জাও নিখোঁজ হন। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে আজ দুপুরে রাকিবের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে সন্দেহজনক কয়েকটি ব্যাগের সন্ধান পায়।

পুকুর থেকে তিনটি ব্যাগ ও বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মেলে নিখোঁজ কাস্টমস কর্মীর ১৫ টুকরা মরদেহ। আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে

পুকুরে মিলল মরদেহের টুকরা

পুলিশ জানায়, রোববার সকাল থেকে এলাকায় বিভিন্ন বাগান ও সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে পুকুরে থাকা ব্যাগগুলো উদ্ধার করে খুলতেই ভেতরে মানুষের দেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া যায়। পরে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে তিনটি ব্যাগ ও একটি বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মোট ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হত্যার পর রাকিব রায়হানের মরদেহ ১৫ টুকরা করা হয় বলে জানান ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরে সেগুলো তিনটি ভ্রমণ ও স্কুলব্যাগ এবং একটি বিছানার চাদরে ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়। জিডি হওয়ার পর থেকেই বাড়ির কেয়ারটেকার আত্মগোপনে থাকায় তাঁকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যার কারণ, এতে কতজন জড়িত এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

Read full story at source