ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
· Prothom Alo

পটুয়াখালীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে সদর উপজেলার যুব জামায়াতের সভাপতি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর আজ বুধবার পটুয়াখালী সদর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত (রেকর্ড) করেছে পুলিশ।
শহিদুল ইসলামের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে। তাঁর বাবার নাম আবুল কালাম।
Visit xsportfeed.quest for more information.
থানা–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ জুলাই এক নারী (২৮) পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে একমাত্র আসামি হিসেবে শহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই দিন শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগটি গ্রহণ করে সদর থানায় মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আজ বুধবার বিকেলে আদালতের মামলা গ্রহণের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, সাত বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। আসামি তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে শহিদুল ইসলাম তাঁকে (বাদী) অনৈতিক প্রস্তাব দেন। বাদী তা প্রত্যাখ্যান করলে আসামি তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলে তাঁকে জেলা শহরে বসবাসকারী আসামির বোনের বাসায় নেওয়া হয়, সেখানে কিছুদিন থাকতে বাধ্য করা হয়। গত ২৪ মার্চ তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে প্রায় ছয় সপ্তাহের গর্ভের ভ্রূণ ওষুধ প্রয়োগ করে নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আসামি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
এ বিষয়ে জানতে শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, ‘যেহেতু শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালত বিষয়টি বিচার করবেন। আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর (শহিদুল ইসলাম) বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’