চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে সাতজনকে ‘ঠেলে পাঠানোর’ দাবি করা ভিডিও ফেসবুকে, খোঁজ মিলছে না কারও

· Prothom Alo

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে সাতজনকে ঠেলে পাঠানো (পুশ ইন) হয়েছে—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তিকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় দেখা গেলেও পরে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

Visit mchezo.co.za for more information.

আজ সকাল ছয়টার দিকে ওই দুজনের বক্তব্য ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক। পরে সেটি ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির ভাষ্য, ‘জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুজনের ঠিকানা জানতে চাইলে খুলনার ডুমুরিয়ার একটি গ্রামে বলে জানান। তাঁদের ভাষ্যমতে, একই সময়ে আরও পাঁচজনকে ঠেলে পাঠানো হয়েছিল। তবে তাদের সর্বশেষ অবস্থান কেউ জানাতে পারেননি।’

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জিনসের প্যান্ট, সাদা ছাপা শার্ট ও কেডস পরা আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং লাল পাঞ্জাবি, কালো প্যান্ট ও কেডস পরা আরেক ব্যক্তি মাথায় নীল রঙের ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। পরে তাঁদের একটি ভ্যানে উঠে চলে যেতে দেখা যায়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম, মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়কওই দুই ব্যক্তির ভাষ্যমতে পাটোয়ারী সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ৫৮ বিজিবি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভারতীয় অংশে পাটোয়ারী নামে কোনো গ্রাম নেই। তা ছাড়া ওই দুজনকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ওই দুজন নিজেদের আপন ভাই বলে দাবি করেন। তাঁদের একজন আমিনুর রহমান, অন্যজন খলিলুর রহমান। তাঁদের বাবার নাম মোহাম্মদ আলী সানা।

আমিনুর রহমানের ভাষ্যমতে, আজ ভোর চারটা থেকে সাড়ে চারটার দিকে তাঁদের দুই ভাইসহ মোট সাতজনকে ভারতের পাটোয়ারী সীমান্তপথ দিয়ে জীবননগর সীমান্তে ঠেলে পাঠায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাকি পাঁচজন কোথায় আছেন বা কোথায় গেছেন, তা তাঁরা বলতে পারেননি। সীমান্ত পার হওয়ার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি।

খলিলুর রহমান জানান, দুই-আড়াই বছর আগে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। এখন গ্রামের বাড়িতে চলে যাবেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন বলে জানান মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই দুই ব্যক্তির ভাষ্যমতে পাটোয়ারী সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ৫৮ বিজিবি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভারতীয় অংশে পাটোয়ারী নামে কোনো গ্রাম নেই। তা ছাড়া ওই দুজনকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান জানান, এ বিষয়ে কোনো তাঁর তথ্য জানা নেই। তবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

Read full story at source