১৮ বছরের অনুসন্ধানের পর কঙ্গোর বনে নতুন বানরের সন্ধান

· Prothom Alo

২০০৮ সালের একটি ঝাপসা ছবি দেখে বিজ্ঞানীরা চমকে গিয়েছিলেন। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল অদ্ভুত এক বানর। ছবিটা দেখেই গবেষকেরা নতুন এই বানরের খোঁজে নেমে পড়েন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তাঁরা বানরটির সন্ধান পেয়েছেন। কঙ্গোর একটি গহিন বনের উঁচু গাছে প্রায় ২০ বছর আগে বানরটির প্রথম দেখা গিয়েছিল। সম্প্রতি একদল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী একে সম্পূর্ণ নতুন এক প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

Visit biznow.biz for more information.

ছোট আকারের এ বানরের মুখ চকমকে কমলা রঙের। এটি কঙ্গোর লোমামি জাতীয় উদ্যান এলাকায় থাকে। সেখানকার আদিবাসীরা একে ডাকে লিকওয়েলি নামে। তবে এর বৈজ্ঞানিক নাম কোলোবাস কঙ্গোএনসিস (Colobus congoensis)। এটি কোলোবাস বানরের ষষ্ঠ প্রজাতি। এই জাতের সব বানরই আফ্রিকায় বাস করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জুলিয়া অ্যারেনসন জানান, তাঁদের দল বানরটির শরীরের গঠন ও নানা তথ্য ভালো করে পরীক্ষা করে দেখেছে। সব পরীক্ষা থেকে একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, লিকওয়েলি আসলেই সম্পূর্ণ নতুন এক জাতের বানর, যা মানুষ আগে কখনো দেখেনি। পৃথিবীতে নতুন কোনো বানরের খোঁজ পাওয়া বিজ্ঞানীদের কাছে খুবই বিরল ঘটনা। বিশেষ করে এমন একদল বানরের সন্ধান পাওয়া, যাদের কথা বিজ্ঞানীরা আগে কোনো দিন শোনেননি।

পাঙাশ মাছ এত দ্রুত বড় হয় কীভাবে

২০০৮ সালে বনের উঁচু ডালে একটি অচেনা কালো বানরের ছবি তোলেন গবেষকেরা। তবে ছবিটি এতই ঝাপসা ছিল, তখন এটি নতুন কোনো প্রজাতির বানর কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মনে কৌতূহল ঠিকই জেগেছিল। সেই শুরু, একঝলক দেখা পাওয়া বানরটির খোঁজে কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর।

প্রথমবার দেখার প্রায় ১০ বছর পর গবেষকেরা আবার এ বানরের দেখা পান। তখনই এটি নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়। গবেষক টেরেসি হার্ট জানান, কঙ্গোর লোমামি বনে টানা ১০ বছর খোঁজাখুঁজির পর তাঁরা বানরটির একদম পরিষ্কার কিছু ছবি তুলতে পারেন। তাতেই নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি সম্পূর্ণ নতুন এক জাতের বানর। এই বানরগুলো আকারে ছোট, বিরল এবং বনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকাতেই শুধু থাকে।

বানরটির খোঁজে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিজ্ঞানীরা পুরো জঙ্গলে জরিপ চালান। তাঁরা বানরটির ব্যাঙের মতো অদ্ভুত ডাক রেকর্ড করেন এবং ল্যাবে এর ডিএনএ পরীক্ষা করেন। বানরটির থাকার জায়গার কাছাকাছি ৫২টি গ্রামের মানুষের সঙ্গেও তাঁরা কথা বলেন। প্রায় ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার বনের মধ্যে বিজ্ঞানীরা ১১৪ বার বানরটিকে দেখতে পেলেও একে ধরা বেশ কঠিন ছিল।

মজার বিষয় হলো, ওই গ্রামবাসী বনের সব পশুপাখির খবর রাখলেও ৫২টি গ্রামের মধ্যে মাত্র ৮টি গ্রামের মানুষ এ বানরকে চিনতে পেরেছিলেন। এর থেকেই বোঝা যায় বানরটি কতটা বিরল।

গবেষক দলের প্রধান জন হার্ট এ আবিষ্কারের সব কৃতিত্ব দিয়েছেন কঙ্গোর স্থানীয় অভিযাত্রী বিজ্ঞানীদের। তিনি জানান, ওখানকার স্থানীয় সাহসী গবেষকেরা যদি প্রথমবার বানরটিকে দেখে এর পেছনে বাড়তি শ্রম না দিতেন, তবে লিকওয়েলি নামের এই নতুন বানরটির কথা হয়তো কোনো দিনই পৃথিবীর মানুষ জানতে পারত না।

আর্জেন্টিনার আদালত দুটি গোল্ডফিশকে ‘জীবন্ত ও অনুভূতিশীল’ স্বীকৃতি দিলেন কেন

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘পিএলওএস ওয়ান’-এ এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে লিকওয়েলি গত ৭৫ বছরের মধ্যে আফ্রিকার পঞ্চম বানর প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেল, যা আগে বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল।

গবেষকেরা ধারণা করছেন, বানরটি কঙ্গো নদীর তিনটি শাখানদীর মাঝখানের একটি ছোট্ট বন এলাকায় বাস করে। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, বন্য প্রাণী শিকার ও মানুষের নানা রকম কর্মকাণ্ডের কারণে বানরটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে আছে। তাই বিজ্ঞানীদের দলটি এ বানরকে বিপন্ন প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করার জন্য সুপারিশ করেছে।

এখন গবেষকেরা আশা করছেন, এই আবিষ্কার কঙ্গোর লোমামি জাতীয় উদ্যান রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। ফলে বনের অনন্য জীববৈচিত্র্য যেমন বাঁচবে, তেমনি সেখানে লুকিয়ে থাকা আরও অনেক অজানা প্রাণীকে খুঁজে বের করা ও রক্ষা করার কাজ সহজ হবে।

সূত্র: ইউরো নিউজদুই সপ্তাহে ১৪ বার চুরি, জাপানে পলাতক ভালুক খুঁজছে পুলিশ

Read full story at source