যুক্তির বদলে অন্ধ অনুসরণ করলে সত্য ক্ষতির শিকার হয়

· Prothom Alo

একজন লেখকের প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রমাণিত হয়, যখন তাঁর লেখা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে ভবিষ্যৎ সমাজেরও আয়না হয়ে ওঠে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সেই বিরল সাহিত্যিকদের একজন। ‘লালসালু’ ও ‘বহিপীর’-এ তিনি শুধু কয়েকটি চরিত্রের গল্প বলেননি; দেখিয়েছেন কীভাবে ক্ষমতা, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ধর্মের অপব্যবহার সমাজকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে।

Visit milkshakeslot.com for more information.

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ ও ‘বহিপীর’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে গোবিপ্রবি বন্ধুসভা। ১৭ জুলাই গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠ আলোচনায় বন্ধুরা বলেন, আজকের বাংলাদেশে চারদিকে তাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যের প্রতিফলন দেখা যায়। সম্প্রতি মাজারকে ঘিরে বিতর্ক, কোথাও কোথাও মাজারে হামলা বা ভাঙচুর, আবার কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে অলৌকিক ক্ষমতার দাবি, তাবিজ-কবজের ব্যবসা বা মানুষের সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগানোর অভিযোগ—এসব ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ধর্মকে ঘিরে মতভেদ ও অপব্যবহারের প্রশ্ন এখনো সমাজে বিদ্যমান। ওয়ালীউল্লাহ এই প্রবণতাগুলোকেই সাহিত্যের ভাষায় প্রশ্ন করেছিলেন।

শুধু তা–ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই মানুষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরে অনেক সময় দেখা যায়, তথ্যটি ছিল মিথ্যা বা বিকৃত। অথচ সেই গুজবের কারণে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হয়। ওয়ালীউল্লাহ যেন আমাদের আগেই সতর্ক করেছিলেন, যখন মানুষ যুক্তির বদলে অন্ধ অনুসরণ করে, তখন সত্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহারও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি দেখিয়েছেন, যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও ভয়কে ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বাড়ায়, তখন ধর্ম নয়, বরং ক্ষমতাই মুখ্য হয়ে ওঠে। আজও আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দেখি—ধর্মীয় পরিচয়, ভাষা বা প্রতীককে ব্যবহার করে মানুষের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করা হয়। এটি কোনো একটি দল বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ইতিহাসের নানা সময়ে এবং বিভিন্ন সমাজে এমন প্রবণতা দেখা গেছে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ধর্মের বিরুদ্ধে ছিলেন না; তিনি ছিলেন ধর্মের নামে ভণ্ডামি, কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে। তাঁর সাহিত্য আমাদের শেখায়—ধর্ম যদি মানুষকে মানবিক, ন্যায়পরায়ণ ও সত্যবাদী না করে, তবে সেই ধর্মচর্চার মধ্যে কোথাও না কোথাও সমস্যা রয়েছে। তাই আজ যখন আমরা ধর্মকে কেন্দ্র করে সংঘাত, গুজব, কুসংস্কার বা ক্ষমতার লড়াই দেখি, তখন মনে হয়, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কেবল অতীতের একজন সাহিত্যিক নন; তিনি আজকের সমাজেরও একজন নির্মোহ বিশ্লেষক। তাঁর সাহিত্য আমাদের একটাই শিক্ষা দেয়—অন্ধ আনুগত্য নয়, সত্য, যুক্তি, মানবিকতা ও বিবেকই একটি সুস্থ সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি।

বন্ধু, গোবিপ্রবি বন্ধুসভা

Read full story at source