আর্জেন্টিনার আদালত দুটি গোল্ডফিশকে ‘জীবন্ত ও অনুভূতিশীল’ স্বীকৃতি দিলেন কেন

· Prothom Alo

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের একটি নামী সুশি রেস্তোরাঁ। তার সামনে কাচের বাক্সে রাখা ছিল দুটি গোল্ডফিশ। সাধারণত কেউ এদের দিকে তাকাতই না। মাঝেমধ্যে কোনো শিশু এসে কাচের গায়ে টোকা দিলে এরা একটু নড়ে উঠত, ব্যস এটুকুই।

Visit tr-sport.click for more information.

কিন্তু একদিন একজন মানুষের চোখ পড়ে মাছের ট্যাংকটির দিকে। সেটি রাখা ছিল কড়া রোদ আর রাস্তার প্রচণ্ড শোরগোলের মধ্যে। এই একটি ঘটনাই বদলে দেয় ‘ফেদে’ ও ‘মাগুই’ নামের ছোট্ট গোল্ডফিশ দুটির জীবন। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার একটি আদালত এই মাছ দুটিকে অধিকার ও অনুভূতি থাকা প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ‘জাউলাস ভাসিয়াস’ নামের একটি সংগঠনের আইনজীবী মাতিয়াস ত্রুফেরো বলেন, যে কেউ একটু ভালো করে তাকালেই বুঝতে পারতেন যে জায়গাটি মাছগুলোর জন্য মোটেও ভালো ছিল না। তাঁদের সংগঠনটি প্রাণীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে এবং সেখানে উদ্ধার করা দুই শতাধিক প্রাণী আছে।

মাতিয়াস ত্রুফেরো জানান, মাছগুলোর কষ্ট দেখেই তাঁদের সংগঠন আদালতে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের যুক্তি ছিল, মাছগুলোকে এভাবে ছোট জায়গায় রেখে কষ্ট দেওয়া আর্জেন্টিনার পশু নির্যাতনবিরোধী আইনের লঙ্ঘন।

রেকর্ড দামে বিক্রি টি-রেক্সের জীবাশ্ম, বিজ্ঞানীদের আপত্তি

বিজ্ঞানীদের সাহায্য নিয়ে জাউলাস ভাসিয়াস আদালতে মামলাটি লড়ে। এরপর আদালতকে বুঝিয়ে খুব দ্রুত মাছ দুটিকে নিরাপদ ও ভালো জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি পেয়ে যায়। আইনজীবী ত্রুফেরো বলেন, রেস্তোরাঁর কর্মীরা আদালতের এ সিদ্ধান্তে কোনো বাধা দেননি।

মাছ দুটিকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছিলেন কার্লোস হোসে আগা নামের এক বিশেষজ্ঞ। পরে তিনি মাছ দুটিকে নিজের কাছে রাখার দায়িত্বও নেন। তিনি বলেন, ওই ছোট কাচের বাক্সে মাছ দুটিকে আটকে রাখা আর প্রচণ্ড গরম ঘরের ভেতর খাঁচায় দুটি মেরুভালুককে বন্দী করে রাখা একই কথা।

মাগুই ও ফেদেকে রেস্তোরাঁর সেই ছোট ৪০ লিটারের বাক্স থেকে সরিয়ে বিশেষজ্ঞ কার্লোস হোসে আগার বাড়ির একটি বড় আড়াই হাজার লিটারের মাছের ট্যাংকে রাখা হয়। আদালত রায় দেন যে মাছ দুটি এখন থেকে এই নতুন অভিভাবকের কাছেই থাকবে।

মাছের বেঁচে থাকার জন্য পানির সব উপাদান সঠিক পরিমাণে থাকতে হয়। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার পর এদের নতুন পরিবেশটা একদম নিখুঁতভাবে তৈরি করা দরকার। পানির পরিবেশ একটু এদিক–ওদিক হলেই এদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এবং এরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

নাসার সিমুলেশনে এবার পৃথিবীতে বসে মঙ্গলের অভিজ্ঞতা

নতুন বড় ট্যাংকে এসে মাছ দুটি এখন খুব ভালো আছে। তবে মাছগুলোকে কেবল উদ্ধার করাই এ লড়াইয়ের একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। আইনজীবী ত্রুফেরো বলেন, ‘মামলার শুরুতেই আমরা অনুরোধ করেছিলাম, মাছ দুটিকে ভালো জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আদালত যেন এদের সংবেদনশীল সত্তা বা অনুভূতি থাকা প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করেন।’ অর্থাৎ তাঁরা চেয়েছিলেন, আইন যেন মাছগুলোকে টেবিল-চেয়ারের মতো কোনো জড় বস্তু হিসেবে না দেখে। মানুষ বা অন্য পশুপাখির মতো এদেরও যে কষ্ট পাওয়ার অনুভূতি ও বেঁচে থাকার অধিকার আছে, সে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।

এ রায়ের ফলে একটি বড় সুবিধা হলো, ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রাণীকে এভাবে ছোট জায়গায় কষ্ট দেওয়া হলে, এ রায়কে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে ওদেরও উদ্ধার করা যাবে।

এখন অনেকেই ভাবতে পারো, বাড়িতে গোল্ডফিশ রাখা কি তাহলে বেআইনি? এর জবাবে সেই আইনজীবী জানান, বিষয়টি আসলে নির্ভর করে কীভাবে মাছগুলোকে রাখা হচ্ছে, তার ওপর। আর্জেন্টিনার আইন অনুযায়ী, অ্যাকুয়ারিয়ামে মাছ রাখা সরাসরি বেআইনি বা অপরাধ নয়। তবে এদের যদি এমন পরিবেশে রাখা হয় যা এদের জন্য কষ্টদায়ক, তাহলে তা অবশ্যই বেআইনি। খুব ছোট জায়গায় আটকে রাখা, ঠিকমতো খাবার না দেওয়া কিংবা এদের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ করা আইনত অপরাধ।

এ ছাড়া মাছটি যদি কোনো বিদেশি বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হয়, যা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতাভুক্ত, তাহলে তাকে ঘরে রাখা নিষিদ্ধ হতে পারে। এ ধরনের নিয়ম বাংলাদেশসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশেই আছে। ২০০৫ সালে ব্রাজিলে সুইজা নামের এক শিম্পাঞ্জির মুক্তির আবেদনের মাধ্যমে প্রথম প্রাণীদের আইনি অধিকারের লড়াই শুরু হয়।

সূত্র: সিএনএনচীনে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৯০০ বিষধর সাপ

Read full story at source