‘ত্রাণের দরকার নেই, থাকার ঘর দেন’

· Prothom Alo

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ১০ জুলাই সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া গ্রামে পানি ঢুকে। এতে মালেকের বসতঘরও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। তবে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার আগে মালেক পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

Visit sportfeeds.autos for more information.

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার কেঁওচিয়া গ্রামের প্রায় সব—ঘরবাড়ি ডুবে যায় গত সপ্তাহের অতি ভারী বৃষ্টিতে। আবদুল মালেকের (৪২) টিনের ছাউনি দেওয়া বেড়ার ঘরটিও বাদ যায়নি। বন্যায় সেটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ভিটায় জমেছে পুরু কাদা। ঘরের কোনো আসবাই রক্ষা করতে পারেননি। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে বিধ্বস্ত ঘরটি দেখে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। দুই মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে কোথায় থাকবেন জানেন না।

গতকাল বুধবার দুপুরে কেঁওচিয়া গ্রামে গেলে কথা হয় আবদুল মালেকের সঙ্গে। পেশায় দরজি মালেক তখন ভিটার এক কোণে মাথায় হাত দিয়ে বসেছিলেন। তাঁর বাঁশ ও টিনের তৈরি বসতঘরটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ভেঙে গেছে মাটির চুলাও। বাড়ির সব জায়গায় এখন কেবল কাদা আর কাদা। ধসে যাওয়া ঘরের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাব। ঘরের বেড়া ও টিন আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। কথা বলতে চাইলে আবদুল মালেক বলেন, ‘আমার ত্রাণের খুব দরকার নেই। একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। থাকার ঘর দেন। কাজ করে কোনো রকম স্ত্রী ও দুই মেয়েকে খাওয়াতে পারছি। কিন্তু ঘর তৈরি করার এত টাকা কোথায় পাব। সরকার যেন আমাদের জন্য দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে।’

আবদুল মালেক আপাতত দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন এক স্বজনের বাসায়। তিনি সেলাইয়ের কাজ করে দৈনিক পান ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। স্বল্প আয়ে পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ১০ জুলাই গ্রামটিতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে মালেকের বসতঘরও কোমর সমানপানিতে তলিয়ে যায়। তবে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার আগে মালেক পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। তিন দিন পানিতে ডুবে থাকার পর গত সোমবার তাঁর বসতঘরটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে। আবদুল মালেক ঘরটি নিজে তোলেননি বলে জানালেন। এটি তাঁর পৈতৃক বাড়ি। নতুন করে টিন, নির্মাণসামগ্রী কেনার টাকা নেই তাঁর কাছে।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সব কটিই পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। এখন শুধু নলুয়া ও আমিলাইশ ইউনিয়নে কিছুটা পানি রয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করছি। আবদুল মালেকের বিষয়েও আমরা খোঁজ নেব। এরপর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন শুরু করব।’

Read full story at source