জিকোর ৪০ বছর পর গিমারাইস: পেনাল্টি মিসেই কি বিদায় ব্রাজিলের
· Prothom Alo
নিউ জার্সিতে ম্যাচের তখন ১৪তম মিনিট। পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। সবাই ভেবেছিলেন, পেনাল্টি শটটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই নেবেন। কিন্তু গোটা পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে ভিনিসিয়ুস বল তুলে দেন ব্রুনো গিমারাইসের হাতে। খটকাটা লেগেছে ঠিক তখনই!
Visit syntagm.co.za for more information.
ভিনি তাঁর ক্যারিয়ারে ১৯টি পেনাল্টি নিয়ে ১৩টিতে গোল করেছেন। ব্রাজিলের জার্সিতে অবশ্য তিনটি পেনাল্টি শটে তাঁর গোল একটি। ওদিকে গিমারাইস তাঁর গোটা ক্যারিয়ারেই মাত্র তিনবার পেনাল্টি শট নিয়েছেন। সব কটিতেই গোল পেলেও আজকের আগে ব্রাজিলের জার্সিতে কখনো পেনাল্টি শট নেননি। ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো—একটি ভুল যেখানে চার বছরব্যাপী দুঃখের উৎস হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ঘটেছেও ঠিক তা–ই। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ম্যাচে ব্রাজিল দুটি পেনাল্টি পেলেও গিমারাইসের স্পটকিক থেকে গোল পায়নি। স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে প্রচুর এবং গিমারাইসের মিসে ফিরে এসেছে ৪০ বছর আগের এক স্মৃতিও।
গিমারাইসের পেনাল্টি শটে তেমন জোর ছিল নাগিমারাইসের আগে বিশ্বকাপে ব্রাজিল সর্বশেষ পেনাল্টি (টাইব্রেকার বাদে) থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় ১৯৮৬ আসরে। সেটা ছিল ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। পোল্যান্ডের বিপক্ষে তার আগের ম্যাচেই সক্রেটিস ও ক্যারেকা পেনাল্টি থেকে গোল করলেও সেদিন ফ্রান্সের বিপক্ষে শটটি নিয়েছিলেন মাত্র দুই মিনিট আগে বদলি হয়ে নামা ‘সাদা পেলে’ জিকো। গিমারাইসের মতো ব্রাজিলের এই কিংবদন্তিও সেদিন গোল করতে পারেননি।
ব্রাজিল এরপর বিশ্বকাপের ম্যাচে ছয়টি পেনাল্টি পেয়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাই থেকে শুরু করে পরে রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনিও ও নেইমাররা এই ছয়বারে কখনো পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হননি।
ফিফাকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন নরওয়ের ‘দেয়াল’ নিলান্ডগিমারাইস এবার ব্যর্থ হওয়ায় রেকর্ড বইয়ে যোগ হলো নতুন একটি নামও। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দুটি পেনাল্টি পেয়েও বিদায় নেওয়া চতুর্থ দল ব্রাজিল। ২০০২ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের পর এবার সেই তালিকায় যোগ হলো সেলেসাওদের নাম।
ডাগআউটে হতাশ ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিইতিহাসে খেয়াল থাকলে আনচেলত্তি সম্ভবত গিমারাইসকে পেনাল্টি শট নিতে দিতেন না। কারণ, আজকের ম্যাচের আগে ইতিহাস বলছিল, বিশ্বকাপে এর আগে নকআউট ম্যাচে (টাইব্রেকার বাদে) তিনবার পেনাল্টি মিস করে দুবারই বাদ পড়েছে ব্রাজিল।
১৯৩৪ বিশ্বকাপে এই শেষ ষোলোর মঞ্চেই স্পেনের বিপক্ষে ৩-১ গোলের হারে পেনাল্টি মিস করেছিলেন ব্রাজিলের সাবেক ফরোয়ার্ড ব্রিতো। চার বছর পর ১৯৩৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে শুধু জিততে পেরেছে ব্রাজিল। এরপর ’৮৬ বিশ্বকাপে জিকোর সেই মিসের কথা তো বলাই হলো। এবার চতুর্থ দফায় ব্রাজিলের আরেকটু সাবধান থাকা উচিত ছিল। স্কোরলাইন সেটাই বলছে।
পেনাল্টিতে বাগ্যুদ্ধ: নরওয়ে গোলকিপারকে ‘বেকুব’ বলেছেন নেইমার