বিশ্বকাপের মাঠে শিশুদের কানে হেডফোন নাকি অন্য কিছু, কেন পরানো হয়?
· Prothom Alo
ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠে গিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছেন বহু দর্শক। কারও কারও সঙ্গে থাকছে শিশুও। বয়স বেশ কম, এমন শিশুদের খেলার মাঠে কানে হেডফোন পরিয়ে আনতে দেখা যায়। কিন্তু কেন? এর সঙ্গে কি শিশুর স্বাস্থ্যগত কোনো বিষয় যুক্ত? মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান–এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম
Visit xsportfeed.quest for more information.
মাঠে খেলা দেখতে নিয়ে আসা শিশুদের যেসব হেডফোন পরানো হয়, সেসব আদতে ‘নয়েজ রিডাকশন ইয়ারমাফস’ বা ‘হিয়ারিং প্রোটেকশন ইয়ারমাফস’মাঠে খেলা দেখতে নিয়ে আসা শিশুদের যেসব হেডফোন পরানো হয়, সেসব একটু বিশেষ ধরনের। এসব হেডফোন চারপাশের শব্দের তীব্রতা কমিয়ে দেয়। সাধারণভাবে আমরা নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন বলতে যা বুঝি, এটি তেমন নয়।
বরং শিশুর জন্য এটি একটি সুরক্ষাসামগ্রী। এটি হলো ‘নয়েজ রিডাকশন ইয়ারমাফস’ বা ‘হিয়ারিং প্রোটেকশন ইয়ারমাফস’।
কেবল স্টেডিয়াম নয়, কনসার্ট বা এমন যেকোনো জায়গা যেখানে উচ্চমাত্রার শব্দ হতে পারে, সেসব জায়গায় শিশুকে এ ধরনের হেডফোন দেওয়া উচিত। জেনে নেওয়া যাক এই বিশেষ সুরক্ষাসামগ্রীর উপকারিতা।
তীব্র শব্দের অস্বস্তি এবং শ্রবণশক্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুকে বাঁচাতে নয়েজ রিডাকশন ইয়ারমাফস দারুণ কাজে আসেউচ্চ শব্দ থেকে বাঁচাতে
বিশ্বকাপের মতো বিশাল আয়োজনে স্টেডিয়ামজুড়ে মানুষ মেতে ওঠে উৎসবে। হইহুল্লোড়, উল্লাস, চিৎকার—নানা রকম শব্দতরঙ্গ ভাসে স্টেডিয়ামে। গোল উদ্যাপন, পেনাল্টি মিসের হতাশা-মাঠের সবই তো ছুঁয়ে যায় দর্শককে। ক্রিকেটসহ যেকোনো বড় খেলার আসরে ঘটে এমন ঘটনা।
শিশুদের কান অনেক বেশি সংবেদনশীল। বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার শব্দের প্রভাব অনেক বেশি হতে পারেকিন্তু এত উচ্চমাত্রার শব্দে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে যে কারোরই। কানে অস্বস্তিকর অনুভূতি হতে পারে। শিশুদের কান অনেক বেশি সংবেদনশীল। বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার শব্দের প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে।
তীব্র শব্দের অস্বস্তি এবং শ্রবণশক্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুকে বাঁচাতে নয়েজ রিডাকশন ইয়ারমাফস দারুণ কাজে আসে।
আপনার শিশুটি কানে শুনছে তো?শান্ত রাখতে
উচ্চমাত্রার শব্দে শিশু ভয় পেয়ে যেতে পারে। আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করতে পারে। এত উচ্চশব্দে অধিকাংশ শিশুই অভ্যস্ত থাকে না। আবার স্টেডিয়ামে ঢোকার পর প্রথমে শান্ত থাকলেও পরে হঠাৎ কোনো তীব্র শব্দ শুনে ভয় পেতে পারে। উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে। বহু মানুষের আনন্দের চিৎকারটাই শিশুর জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। শিশুকে শান্ত রাখতে তাই নয়েজ রিডাকশন ইয়ারমাফস দারুণ এক অনুষঙ্গ।
এটি কানে থাকলে শিশুর কানে অতটা উচ্চমাত্রার শব্দ ঢুকতে পারে না। ফলে শিশু হুট করে ভয় পেয়ে যায় না বা শব্দের কারণে কাঁদে না।
ইয়ারমাফস কানে থাকলে শিশুর কানে উচ্চমাত্রার অতটা শব্দ ঢুকতে পারে নাঘুমের ব্যাঘাত এড়াতে
ছোট্ট শিশুর ঘুমের চাহিদা বেশি। ২৪ ঘণ্টার অনেকটা অংশই ঘুমিয়ে কাটে তাদের। ৯০ মিনিটের খেলার মধ্যেও ছোট্ট শিশুর ঘুম আসতে পারে। বিশেষত খেলার সময়টা যদি তার নিয়মিত ঘুমের সময় হয়ে থাকে, তাহলে এই সময় শিশু ঘুমিয়ে পড়তে চাইতেই পারে।
কিন্তু উচ্চ শব্দে সে ঘুমাতে পারবে না। ফলে তার মেজাজ যাবে চড়ে। সে যেমন বিরক্ত হবে, অন্যদের বিরক্তির কারণও হয়ে উঠবে।
ছোট্ট শিশুকে নিয়ে স্টেডিয়ামে স্বস্তিতে খেলা দেখতে চাইলে ইয়ারমাফস খুবই জরুরি এক অনুষঙ্গআবার খেলার আগেই ঘুমিয়ে পড়া শিশুকে কোলে নিয়েও আসতে হতে পারে কোনো অভিভাবককে। তীব্র শব্দে শিশুর ঘুম ভেঙে যায় সহজেই। ঘুমিয়ে থাকা শিশু আচমকা বিকট শব্দে যেমন চমকেও যায়, তেমনি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার কারণে বিরক্তিও প্রকাশ করে। তাতেও শিশু এবং অভিভাবক দুজনেরই কষ্ট বাড়ে।
তীব্র শব্দ এড়ানো গেলে এত সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। ঠিক এ কাজটাই করে নয়েজ রিডাকশন ইয়ারমাফস। বুঝতেই পারছেন, ছোট্ট শিশুকে নিয়ে স্টেডিয়ামে স্বস্তিতে খেলা দেখতে চাইলে এটি খুবই জরুরি এক অনুষঙ্গ।
শিশুর কানপাকা নিয়ে ভাবছেন?শব্দদূষণ এড়াতে কি এমনিতেও পরানো যায়
সড়ক পার হওয়ার সময় গাড়ির হর্নের শব্দ সহ্য করতে না পেরে হাত দিয়ে কান ঢেকে রেখেছে শিশুটি।বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে সাধারণ কর্মচঞ্চল একটা দিনেও পথেঘাটে শব্দের তীব্রতা সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এই দূষিত পরিবেশ ছোট্ট শিশুর ওপর ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশুদের তীব্র শব্দের মধ্যে নিয়ে যেতে হলেও এ ধরনের অনুষঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন।
তবে অবশ্যই মানসম্মত ইয়ারমাফস বেছে নিন। অবশ্যই যেন শিশুর জন্য আরামদায়ক হয়। খেয়াল রাখতে হবে, খুব গরমে বাড়তি অনুষঙ্গ অস্বস্তির কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশের শিশুদের কানের সমস্যা বেশি