বাচ্চাদের জার্সির অধিকার লঙ্ঘনের বিচার কি হবে না
· Prothom Alo

বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় মেতে অনেকেই প্রিয় দলের জার্সি পরছেন। জার্সি পরায় সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে জার্সি পরানোয়। পরিবারের খুদে সদস্যদের নিজের পছন্দের জার্সি পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এতে বাচ্চাদের জার্সির অধিকার রীতিমতো লঙ্ঘিত হচ্ছে। অধিকার নিয়ে এত কথা হয়, হাউকাউ হয়, কিন্তু বাচ্চাদের জার্সির অধিকার নিয়ে কোনো অধিকারকর্মীই কথা বলছেন না? হায়...মানবতা আজ কোথায়!
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
আমার এক সহকর্মী তাঁর এক বছরের কম বয়সী কন্যাকে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। কেন এই অবুঝ শিশুকে জোর করে ব্রাজিলের সমর্থক বানানো হলো? কেন নিষ্পাপ মেয়েটির জার্সির অধিকার লঙ্ঘন করা হলো? এমন প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে সেই সহকর্মীর সোজা জবাব, ‘ছোটবেলা থেকেই মেয়েকে সঠিক পথে রাখা তো বাবারই দায়িত্ব!’
এভাবে নানা যুক্তি দিয়ে বাচ্চাদের ওপর বড়দের ইচ্ছামাফিক জার্সি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কেউ কেউ ফেসবুক আদালত উত্তপ্ত করে ফেলেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বুঝ হওয়ার আগেই শিশুকে এভাবে দলে ভেড়ানো কি ঠিক? নীতি-নৈতিকতা বলে কি কিছু থাকবে না?’
আরেক জনের মন্তব্য, ‘ওরা যখন বাস্তবতা বুঝবে, তখন আপনাতেই আকাশি-নীল জার্সি পরবে। এখন এসব জার্সি চাপিয়ে দিয়ে খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না।’
কেউ কেউ তো পারলে বিচার দাবি করে বসেন। আচ্ছা, যদি বাচ্চাদের জার্সির অধিকার লঙ্ঘনের বিচার করা হয়, তবে কোন আদালতে হবে? এটা একটা জটিল প্রশ্ন।
দেশের এমন বাস্তবতায় ফুটবল উন্মাদনা সামলাতে ‘ফুটবল আদালত’ গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেখানেই হতে পারে জার্সি অধিকার লঙ্ঘনের উপযুক্ত বিচার। সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা খাওয়া ফুটবলপ্রেমীদের বিচারও ফুটবল আদালতেই হতে পারে।