বড়াইগ্রামে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের নিয়ে তালা ভেঙে কার্যালয় দখলের অভিযোগ
· Prothom Alo

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ডিগ্রি কলেজের বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ আবুল আছর মো. শফিউজ্জামানের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের নিয়ে তালা ভেঙে অধ্যক্ষের কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
Visit tr-sport.bond for more information.
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক কমিটি অধ্যক্ষ আবুল আছর মো. শফিউজ্জামানকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে। তখন থেকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম রাজিবুল করিম নিজ কক্ষে বসে কলেজ পরিচালনা করে আসছেন। পরে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কলেজের পরিচালনা পর্ষদের নিয়মিত কমিটি আগের অধ্যক্ষকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কাগজপত্র পাঠায়।
কলেজ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আজ বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ প্রায় ৩০ জন লোক নিয়ে সাবেক অধ্যক্ষ আবুল আছর মো. শফিউজ্জামান কলেজে আসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা লোকেরা অধ্যক্ষের কক্ষের তালা ভেঙে ফেললে শফিউজ্জামান সেখানে প্রবেশ করেন ও অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন। তিনি সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। যাওয়ার আগে ওই কক্ষের দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে যান। এ ছাড়া ওই কক্ষের পাশে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রশাসনিক কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে তিনি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি চান্নু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে আসেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যায়। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাজিবুল করিম অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় আরেকটি তালা ঝুলিয়ে দেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম রাজিবুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কলেজের কাজে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। অন্য শিক্ষকেরা নিজ নিজ বিভাগে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ আগের অধ্যক্ষ ক্যাডারের বহর নিয়ে এসে তালা ভেঙে অধ্যক্ষের কার্যালয় দখল করে নেন। খবর পেয়ে আমি বিষয়টি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানাই এবং গভর্নিং বডির সভাপতিকে অবহিত করি।’ তিনি আরও বলেন, আগের অধ্যক্ষকে বহিষ্কার করা হলে তিনি ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যান। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে স্থিতিতাবস্থা বিরাজ করছে। অথচ তিনি বেআইনিভাবে কলেজ দখল করলেন।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি চান্নু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি কলেজে গিয়েছিলাম। তবে আমি যাওয়ার আগেই আগের অধ্যক্ষ কলেজ থেকে লোকজন নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভর্নিং বডির সভা ডেকে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’
বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ আবুল আছর মো. শফিউজ্জামান বলেন, ‘আমি কলেজে গিয়ে আমার কক্ষে বসেছিলাম। দরজা খোলা ছিল, তাই তালা ভাঙার অভিযোগ সঠিক না। সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক চুরির অভিযোগ ঠিক না।’ উচ্চ আদালতের স্থিতিতাবস্থা ভেঙে কলেজে প্রবেশ করার বিষয়ে বলেন, ‘আমি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করিনি। আমাকে গভর্নিং বডি প্রথমে ছুটি দিয়েছিল। ছুটিতে থাকাবস্থায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়। এটা বেআইনি। আমি এর প্রতিকারের জন্য আদালতে গিয়েছি।’
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বহিষ্কৃত অধ্যক্ষের বিষয়ে আদালতে মামলা চলছে। সবকিছু জেনেশুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।