ভোটকেন্দ্রের দরজায় তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
· Prothom Alo

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির (বাচশিস) নির্বাচনে দুপুরে বিরতির সময় ভোটকেন্দ্রের দরজায় তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভোটকক্ষের ভেতরে কয়েকজন অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন আরমান–মুক্তি প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
দুপুরে ভোটকেন্দ্রের দরজায় তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়রুমানা ইসলাম মুক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘এমন কোনো নিয়ম তো নেই। নির্বাচন কমিশনারকে ফোন দিচ্ছি, কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ভেতরে লোক রেখে বিরতি দেওয়া হলো—এটা কেমন নিয়ম? তাঁদের সঙ্গে নির্বাচনে দাঁড়ানোই ঠিক হয়নি।’ একই অভিযোগ করেন অভিনেতা আবির চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এটা তো ম্যানুয়াল কাউন্টের ভোট। ভেতরে লোক রেখে দরজায় তালা দেওয়া হবে কেন? ইতিমধ্যে যত ভোট পড়েছে, সেগুলো আবার গণনা করে এরপর নতুন করে ভোট গ্রহণ শুরু করার দাবি জানাই।’
Visit turconews.click for more information.
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে কেন ‘বেকার সমিতি’ বলা হচ্ছেভোটকেন্দ্রের দরজায় তালা দেওয়ার খবরটি শোনার পর প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুক্তিঅন্যদিকে ভোটকক্ষের ভেতর থেকে এক নিরাপত্তারক্ষীকে বের হতে দেখা যায়। বের হয়ে নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘আমি ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম। গেটে তালা দিয়ে দেওয়া হবে, সেটা বুঝতে পারিনি।’ অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার কিবরিয়া লিপু বলেন, এ ধরনের কিছু ঘটার কোনো সুযোগ নেই। ভোটকক্ষের ভেতরের সবকিছুই প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ, চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। জানা গেছে, এবার ভোটার সংখ্যা ৫৭৩। তাঁদের ভোটেই আগামী দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হবে শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব। সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ভোটকেন্দ্রে ছিল উৎসবের আমেজ। ভোট দিতে আসা শিল্পীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছিলেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।
‘শুক্রবার আমার চেম্বারে রোগী বেশি’—ভোট দিয়ে বললেন এজাজভোট দিতে আসেন আলমগীরসকাল পৌনে ১০টার দিকে ভোট দিতে এফডিসিতে আসেন অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। এত সকালে ভোট দিতে আসার কারণ জানতে চাইলে স্বভাবসুলভ হাস্যরসে তিনি বলেন, ‘ডাক্তার পেশাতে আছি ভাই।’ ভোট দেওয়ার পর প্রথম আলোকে এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার আমার চেম্বারে অনেক বেশি রোগী থাকেন। তাই সকাল সকাল আসতে হলো। প্রতিবারই আমি সকাল সকাল ভোট দিই।’ নির্বাচন নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ হোক। নির্বাচনের পর তো আমরা সবাই এক। কোনো বিভেদ না থাকুক।’
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল। একটির সভাপতি পদে লড়ছেন ফাইট ডিরেক্টর ও প্রযোজক মকবুল হোসেন আরমান, সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্য প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অভিনেতা শিবা সানু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী।
দুটি প্যানেলই জয় নিয়ে আশাবাদী। এদিকে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, শিল্পী সমিতির সদস্য হতে পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শর্ত থাকলেও এবার কম কাজ করা কয়েকজনকেও সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
‘ভোট শেষে কোর্ট-কাছারি নয়’, সবাই মিলে কাজের আহ্বান আবুল হায়াতেরগত কয়েকবারের মতো এবারও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এফডিসিতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো গত মেয়াদের সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবার কোনো পদেই প্রার্থী হননি। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই শিল্পী সমিতির ৫৭৩ জন সদস্য ভোট দিয়ে বেছে নেবেন আগামী দুই বছরের নতুন নেতৃত্ব।