উন্মাদনা দেখতে আর্জেন্টিনা থেকে ঢাকায়

· Prothom Alo

আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার। ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, ইতিহাসও ভিন্ন। তবু ফুটবল নামের এক অদৃশ্য সেতু দুই দেশকে এমনভাবে যুক্ত করেছে যে ঢাকার ছাদে ছাদে ওড়ে আর্জেন্টিনার পতাকা। সেই ভালোবাসার উৎস খুঁজতে, বিশ্বকাপের উন্মাদনা আরও কাছ থেকে অনুভব করতে এবার বাংলাদেশে এসেছেন আর্জেন্টিনার পরিচিত মুখ ড্যান লান্দে, যিনি রুলো নামে পরিচিত।

ড্যান লান্দে আর্জেন্টাইন ভ্রমণ লেখক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সাংস্কৃতিক দূত। গতকাল রোববার সকালে ড্যান লান্দে ও তাঁর দল ঢাকায় আসে। এরপর সন্ধ্যায় তাঁরা প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন। প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শনকালে দলটির সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। তাঁরা প্রথম আলো কার্যালয় ঘুরে দেখেন এবং কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের বাংলাদেশে থাকার কথা রয়েছে।

Visit grenadier.co.za for more information.

সফরকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে সময় কাটানো, বিশ্বকাপ ঘিরে জন–উচ্ছ্বাস দেখা এবং বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতা জানার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

ঢাকার আর্জেন্টিনা দূতাবাস জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতেই তাঁদের এই সফর। সফরকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে সময় কাটানো, বিশ্বকাপ ঘিরে জন–উচ্ছ্বাস দেখা এবং বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতা জানার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ড্যান লান্দের সঙ্গে এসেছেন আর্জেন্টিনার সৃজনশীল পেশাজীবী ম্যানুয়েল হাভিয়ের এসকেরা রামোন, মার্তিন দে এসকালাদা, মার্তিনা জয়ে গন্ডেল ও সান্তিয়াগো কন্দে। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের প্রতি আর্জেন্টিনার মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই তাঁদের এই সফর।

বাংলাদেশে এসে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উন্মাদনা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ড্যান লান্দে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এসেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশ এই ভালোবাসার স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।’

সফরসূচি অনুযায়ী, লান্দে ও তাঁর দলের পুরান ঢাকার অলিগলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, আমিনবাজার এবং মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ড্যান লান্দে। বিমানবন্দর থেকে শহরের পথে আসতে গিয়ে ভবনের ছাদে উড়তে থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা দেখে বিস্মিত হন তিনি। লান্দে বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশিদের যে আবেগ, তা তাঁদের দেশের মানুষও পুরোপুরি কল্পনা করতে পারেন না। চলতি বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো বা কানাডার চেয়ে বাংলাদেশেই বিশ্বকাপের আবহ উপভোগ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, লান্দে ও তাঁর দলের পুরান ঢাকার অলিগলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, আমিনবাজার এবং মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁরা এসব জায়গায় ফুটবল সমর্থক গোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সময় কাটাবেন। ২৪ জুন আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের।

ফুটবলের টানে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্ক এখন শুধু সমর্থনের আবেগে সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের মানুষের এই আন্তরিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে সংস্কৃতি, পর্যটন, বাণিজ্য ও ক্রীড়াকূটনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছে ঢাকার আর্জেন্টিনা দূতাবাস।

সফরকালে ২২ ও ২৮ জুনের বিশ্বকাপ ম্যাচের দিনগুলোতে ড্যান লান্দে ও তাঁর দল বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখবেন এবং ম্যাচ ঘিরে জনসমাগম ও উদ্‌যাপন দেখবেন।

২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে পরিচিতি পান ড্যান লান্দে। সে সময় তিনি আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রচারণা চালান, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আগ্রহ ও বন্ধুত্বের নতুন মাত্রা যোগ করে।

ফুটবলের টানে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্ক এখন শুধু সমর্থনের আবেগে সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের মানুষের এই আন্তরিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে সংস্কৃতি, পর্যটন, বাণিজ্য ও ক্রীড়াকূটনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছে ঢাকার আর্জেন্টিনা দূতাবাস।

Read full story at source