সংবাদপত্র সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে খবর ছাপে, ভয় পায় না: প্রধানমন্ত্রী

· Prothom Alo

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আজকে সংবাদপত্র সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে খবর ছাপে, ভয় পায় না। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক্‌-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জনগণের জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে পারছি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা যদি রক্ষা করতে না পারি তাহলে এ দেশের মানুষের ক্ষতি হবে।’

আজ বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তারেক রহমান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

Visit sweetbonanza.qpon for more information.

বর্তমান সরকার সব মানুষের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘১২ (ফেব্রুয়ারি) তারিখ বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে। ১২ তারিখ পর্যন্ত বিএনপি একটি দল ছিল। ১৭ তারিখ সরকার গঠন করার পর থেকে যারা আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা যেমন তাদের সরকার; যারা ভোট দেয়নি, তাদেরও সরকার। সব মানুষের সরকার। আমরা যেসব কথা বলেছি, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে উপকারভোগী হবে বাংলাদেশের মানুষ।’

আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় আট হাজার মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলেছিলাম সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেব। চা-শ্রমিক নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আজকে এখানে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষক। কৃষকদেরও কার্ড দিতে চাই। এক বছরের মধ্যে সারা দেশে ৪০ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব। সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।’

এই দলগুলো অশান্তি করার সুযোগ পেলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না: প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গ্রামের মানুষ যাতে চিকিৎসা সুবিধা পায়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালিসিস সুবিধা নিয়ে আসা হবে। স্কুলের বাচ্চাদের আগামী জুলাই থেকে এক জোড়া কাপড়, বই-খাতার সঙ্গে ব্যাগ দেওয়া হবে।’ তিনি শিশুদের প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ‘এই কাজগুলো বাস্তবায়িত হলে দলমত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ সবাই উপকৃত হবে। বাংলাদেশের নাগরিক হলেই সুবিধা পাবে।’

জনগণকে চোখ–কান খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়। শান্তি চায়। কর্মসংস্থান চায়। শিক্ষা-চিকিৎসার ব্যবস্থা চায়। ভালোভাবে বাঁচতে চায়। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়।’ তিনি বলেন, ‘দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনে সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি জনগণেরও দায়িত্ব আছে। ২০ কোটি মানুষের পরিবর্তন করতে পারলে দেশের পরিবর্তন হবে। সরকার জনগণের জন্য কাজ করতে চায়। এ জন্য জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। জনগণের অর্থ যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, এ জন্য জনগণকে চোখ–কান খোলা রাখতে হবে।’

তারেক রহমান কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘একটি দল বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিশুদের নতুন কাপড় দিতে চায়। জনগণের জন্য কাজ করছে। তারা সময় দিতে চায় না। তারা জনগণের বিপক্ষে কথা বলে। জনগণের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থে কথা বলে।’

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। এই জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে। এই জনগণ স্বৈরাচার বিদায় করেছে। নির্বাচনের আগে আমরা একটি ম্যানিফেস্টো দিয়েছিলাম। নির্বাচনের পর মানুষ প্রমাণ করেছে, এটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ম্যানিফেস্টো। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিএনপি পাঁচ বছর কাজ করবে। যারা বলে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তরে দেশকে স্বাধীন করেছে বাংলাদেশের জনগণ। স্বৈরাচারমুক্ত করেছে জনগণ। এ দেশের মালিক জনগণ। মালিক যদি সতর্ক থাকে, তাহলে আর কোনো টেনশন নেই। এই জনগণের হাতেই এ দেশের নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সঁপে দিলাম। দেশ গড়াই হবে আগামী দিনের রাজনীতি। করব কাজ, গড়ব দেশ।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু ইউছুফ। আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, শওকতুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন আহমেদ ও জহরত আদিব চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে জমল বৃষ্টির পানি, বাতাসে ভেঙে পড়ল প্যান্ডেল

এ সময় ১০টি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সুবিধাভোগীদের মধ্যে শাহীনা আক্তার ও শুক্লা রানি সরকার তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া দুরারোগ্য রোগী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গৃহহীন পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই সঙ্গে ১৯টি জেলার ২০টি উপজেলার সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় খাগড়াছড়ি, রংপুর ও সুনামগঞ্জ জেলার সুবিধাভোগী কয়েকজন তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। অনলাইনে যুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী স্কুল মাঠে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

Read full story at source