মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে বিশ্বকাপের মাসকট সেজেছিল পুলিশ
· Prothom Alo

ফুটবল উন্মাদনায় মানুষ কত কিছুই না করে। তবে সেই উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে পেরুর পুলিশ যা করল, তা রীতিমতো হাসির খেরাক জুগিয়েছে বিশ্বজুড়ে। ফুটবল–ভক্ত এক মাদক চোরাচালানকারীকে পেরুর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বিশ্বকাপের মাসকট সেজে।
Visit freshyourfeel.org for more information.
অপরাধীকে ধরতে কতই না ফন্দিফিকির করতে হয় পুলিশকে। তবে পেরুর রাজধানী লিমার পুলিশ যেন এক ধাপ এগিয়ে। ফুটবলপ্রেমী এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে রীতিমতো ফুটবল বিশ্বকাপের মাসকট সেজেছিল তারা।
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক দিন ধরেই মাদক চোরাকারবারের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারছিল না রাজধানী লিমার পুলিশ।
পেরুর পুলিশ বলেছে, ‘অনেক দিন ধরেই আমরা নজরদারিতে রাখছিলাম তাঁকে। নজরদারিতেই আমরা জানতে পারি, আমাদের নজরবন্দী সেই অপরাধী ফুটবলের অনেক বড় ভক্ত। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তাঁকে আটক করার পরিকল্পনা সাজানো হয়।’
পুলিশের ‘গ্রিন স্কোয়াড্রন’-এর দুই সদস্য বিশ্বকাপের দুই মাসকট পরে হাজির হন চোরাচালানকারীর ডেরায়পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুলিশের ‘গ্রিন স্কোয়াড্রন’-এর দুই সদস্য বিশ্বকাপের দুই মাসকট পরে হাজির হন চোরাচালানকারীর ডেরায়। দুজনের পরনে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মাসকট ‘ক্লাচ’ ও ‘ম্যাপল’। বিশ্বকাপের আনন্দ ছুঁয়ে গিয়েছে পুরো পৃথিবীতেই। ফলে কোনো রকম সন্দেহ না জাগিয়ে একেবারে অপরাধীর ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে পুলিশ।
এরপরের দৃশ্যগুলো যেন কোনো হলিউডের অ্যাকশন সিনেমার চেয়ে কম কিছু নয়। দরজা ভেঙে যখন দুই বিশ্বকাপ মাসকট ঘরে প্রবেশ করে, রীতিমতো তাজ্জব বনে যান সেই মাদক চোরাকারবারি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া।
‘লোকে বলে এই ব্রাজিল সেই ব্রাজিল নয়, কিন্তু তারপরও এটা ব্রাজিলই’ভারী পোশাকের কারণে সহজেই মাসকটদের কাটিয়ে বেরিয়ে যান সেই অপরাধী। ভারী মাসকটের পোশাক পরেই পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ধাওয়া করেন ভবনের ওপরের তলা পর্যন্ত। শেষমেশ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় ভবনের ছাদ থেকে। গ্রেপ্তারের পর মাসকটের পোশাকে অপরাধীর সঙ্গে ছবি তুলতেও ভুল করেনি তারা।
এত পরিকল্পনা বিফলে যায়নি। ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি পিস্তল, ধারালো ছুরি এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ।
লাতিন আমেরিকা থেকে বাছাইপর্ব পার করতে না পারায় এই বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না পেরুর। তবে খেলা না হলে কী হবে, ঠিকই বিশ্বকাপের মৌসুমে বিশ্বজুড়ে পত্রিকার শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে তারা। দুই পুলিশের একটা ধন্যবাদ প্রাপ্যই।
এক সংবাদ সম্মেলনে ৪টি ভাষা, কয়টি ভাষা জানেন আনচেলত্তি