চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তরই লক্ষ্য, বার্তা বিনিয়োগ সম্মেলনে
· Prothom Alo

বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মাঝেও বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও উন্মুক্ত গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চায় সরকার। ‘স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও উন্নয়ন’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন গতি আনার বার্তা দিয়েছে ঢাকা।
Visit moryak.biz for more information.
আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে সরকারের এমন ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি (বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির পথনকশা)’ শীর্ষক ওই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশনের পাশাপাশি তিনটি আলাদা কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও চ্যালেঞ্জকে নতুন সুযোগে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তাঁর মতে, বর্তমান জ্বালানিসংকটের ব্যাপ্তি ১৯৭০-এর দশকের দুই দফা তেলসংকটের চেয়েও বড় হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশককে অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য উন্নয়নের একটি ‘হারানো দশক’ হিসেবে পরিণত করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
খলিলুর রহমান বলেন, জ্বালানিসংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থায়ন ও প্রযুক্তির এই উন্নয়নের মুখে প্রধানমন্ত্রীরও একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন বা রূপকল্প রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি চ্যালেঞ্জগুলোকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করতে চান। এ ক্ষেত্রে তিনটি মূল লক্ষ্য হলো: স্থিতিশীলতা আনা, সংস্কার করা ও উন্নয়ন সাধন করা। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কূটনীতির কাজের ক্ষেত্রে তাঁর এই রূপকল্পকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ আয়োজনে আজ শনিবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি’ শীর্ষক সম্মেলনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে প্রথম প্রয়োজন আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। দেশীয় ব্যবসায়ী, নাগরিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে।
খলিলুর রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সব নাগরিকের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বর্তমান সরকার। অর্থনীতিতে সাম্য ও ন্যায্যতা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করা বিএনপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তৃতা করেন বিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
প্রথম কর্ম অধিবেশন
সম্মেলনের প্রথম কর্ম অধিবেশনে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঞ্চালনায় প্রথম কর্ম অধিবেশনে বিনিয়োগ ও অর্থনীতির সঙ্গে কূটনীতির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এ সময় তাঁরা সংযুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ আয়োজনে আজ শনিবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি’ শীর্ষক সম্মেলনে বাঁ থেকে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনপররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ও তাঁদের যেকোনো সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিদেশি বিনিয়োগ বাজারে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কানেক্টিভিটি বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।