পিরিয়ড বন্ধ রাখতে ওষুধ খাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

· Prothom Alo

কোনো বিশেষ পরিকল্পনার সঙ্গে মাসিকের তারিখ মিলে গেলে অনেকেই সাময়িকভাবে পিরিয়ড বন্ধ রাখতে ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে মনে রাখা জরুরি, এ ধরনের ওষুধ সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়।

কোনো গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক আয়োজন, ভ্রমণ, উৎসব কিংবা কোনো বিশেষ পরিকল্পনার সঙ্গে মাসিকের তারিখ মিলে গেলে অনেকেই সাময়িকভাবে পিরিয়ড বন্ধ রাখতে ওষুধ খেয়ে থাকেন। কখনো কখনো এন্ডোমেট্রিওসিস বা অতিরিক্ত মাসিক হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতেও ওষুধের মাধ্যমে পিরিয়ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। এসব ওষুধ মূলত হরমোন–সংবলিত এবং রক্তে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পিরিয়ডের সময় পিছিয়ে দিতে পারে বা কিছুদিনের জন্য পিরিয়ড বন্ধ রাখতে সাহায্য করে। এ ধরনের ওষুধ গ্রহণের নিয়মকানুন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি নিয়ে উদ্বেগে ভোগেন অনেকেই।

Visit freshyourfeel.org for more information.

স্যানিটারি ন্যাপকিন সর্বোচ্চ কতক্ষণ ব্যবহার করবেন ?

পিরিয়ড বন্ধ রাখতে যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে পিরিয়ড বন্ধ রাখার জন্য বিরতিহীন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করতে বলা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির প্যাকেটে হরমোন বড়ির বাইরে যে কয়েকটি প্ল্যাসেবো বা ভিটামিন বড়ি যুক্ত করা থাকে সাধারণত সেগুলো সেবন করার সময়ই পিরিয়ড হয়। এই পিরিয়ড বন্ধ রাখার জন্য ওই বাড়তি বড়িগুলো না খেয়ে টানা হরমোনের বড়ি খেয়ে যেতে বলা হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে পিরিয়ড বন্ধ থাকে।

এ ছাড়া কিছুদিনের জন্য পিরিয়ড বন্ধ রাখতে তারিখের ৩ থেকে ৪ দিন আগে থেকে প্রজেস্টিন অনলি পিল বা নোর এথিস্টেরন–জাতীয় ওষুধ সেবন করলে পিরিয়ড সাময়িকভাবে পেছানো যায়। এই ওষুধ বন্ধ করার পর আবার স্বাভাবিক পিরিয়ড শুরু হয়। দীর্ঘ সময়ের জন্য পিরিয়ড বন্ধ করতে জরায়ুর ভেতর হরমোনযুক্ত ইন্ট্রা ইউটেরাইন ডিভাইস ব্যবহার বা মাংসপেশিতে মেড্রোক্সিপ্রজেস্টেরন ডিপো ইনজেকশনের বিকল্প নেই।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ সাময়িক ব্যবহারের জন্য খাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তেমন গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। তবে যাঁদের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগ আছে, রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি আছে বা তীব্র মাইগ্রেন রয়েছে, তাঁদের জন্য এ ধরনের ওষুধ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ওষুধের মাধ্যমে পিরিয়ড বেশ কিছুদিন বন্ধ রাখার পর যখন আবার শুরু হবে, তখন মাসিকে রক্তপাত বেশি হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধ চলা অবস্থায় ব্রেক থ্রু ব্লিডিং (স্বাভাবিক সময় বা নিয়মিত মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে যোনিপথ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে রক্তপাত বা স্পটিং হওয়া) হতে পারে।

সতর্কতা

প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক-দুই মাস, কয়েক মাস বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্যও মাসিক সাময়িকভাবে বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে মনে রাখা জরুরি, এ ধরনের ওষুধ সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারী, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা, ধূমপানের অভ্যাস বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মাসে দুবার পিরিয়ড হওয়া কি শারীরিক সমস্যার লক্ষণ?

Read full story at source