বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, দাম বাড়বে তেলের গাড়ির
· Prothom Alo

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) সাধারণ মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তেলচালিত মধ্যম সারির গাড়ির ওপর কর বাড়ানো হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে এটা সরকারে গৃহীত বড় ধরনের নীতিগত উদ্যোগ।
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (পিএইচইভি), এসব যন্ত্রপাতি ও চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে বিপুল শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। অপর দিকে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কিছু গাড়ি আমদানিতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।
Visit mchezo.co.za for more information.
পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ইভি ও হাইব্রিড গাড়িতে কর কমছে
প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়, বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি আমদানিতে মোট করভার প্রায় ৯৩ শতাংশ। এই ভার লাঘব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিবেশদূষণ রোধ ও জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ব্যতীত সব শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সুবিধা ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন পিএইচইভি বা প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রেও কর কমিয়ে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনক্ষমতাসম্পন্ন পিএইচইভি গাড়ির সম্পূরক শুল্ক কমানো এবং ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন পিএইচইভি গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এতে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির মোট করভার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশে নেমে আসবে। একইভাবে ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে।
এ ছাড়া সব ধরনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা হলেও তা কমিয়ে সক্ষমতার ভিত্তিতে স্তরভিত্তিক হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত সক্ষমতার ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা, ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা ও ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি সক্ষমতার ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব করা হয়েছে।
চার্জিং স্টেশনে শুল্ক শূন্য
এই শিল্পে উৎসাহ দিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের উপকরণ আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক–কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে জরুরি দেশব্যাপী বিস্তৃত চার্জিং নেটওয়ার্ক। এ লক্ষ্যে চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের জন্য যাবতীয় উপকরণ আমদানি পর্যায়ে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মধ্যম সারির তেলচালিত গাড়িতে বাড়তি কর
অন্যদিকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাসশন (আইসি) ইঞ্জিনযুক্ত আমদানি করার গাড়ির করভার বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ।
বর্তমানে এসব গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এটা বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য শ্রেণির গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলচালিত গাড়ির আমদানি ও ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি ক্রেতাদের পরিবেশবান্ধব বিকল্প গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ।
এই বাড়তি করের প্রস্তাব কার্যকর হলে বাজারে তেলচালিত গাড়ির দাম বেশ বাড়বে। বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা আমদানি মূল্যের একটি গাড়ির ওপর মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ফলে বাজারে এর দাম পড়ে প্রায় ৬৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
বাজেটে প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, একই গাড়ির দাম বেড়ে হবে আনুমানিক ৭৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা; অর্থাৎ শুধু বাড়তি করের কারণেই এসব গাড়ির দাম বেড়ে যাবে প্রায় ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে এই কর বৃদ্ধি কেবল ১ হাজার ২০০ সিসি থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্যাটাগরির গাড়ির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
দেশে উৎপাদনে সুবিধা
এদিকে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনকারী শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণে শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের শুল্ক–কর রেয়াতি সুবিধা দিতে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
যেসব প্রতিষ্ঠান চার চাকা ও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনের বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং ও সংযোজন করতে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চ মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ব্যতীত সব ধরনের শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান পার্টস সংযোজন ও পেইন্টিং কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা কম মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ব্যতীত অন্যান্য সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের উপকরণ ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট এবং অন্য সব ধরনের শুল্ক-কর থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব রেয়াতি সুবিধা ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।