অ্যান্টার্কটিকার ঘোস্ট পার্টিকেল কি পদার্থবিজ্ঞানের নতুন দুয়ার খুলবে

· Prothom Alo

পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা ও নির্জন মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীর তলদেশ। সেখানেই চলছে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনের এক অসাধারণ চেষ্টা। সেখানে অবস্থিত বিশাল আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির সাম্প্রতিক গবেষণায় নিউট্রিনো নিয়ে নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি ভবিষ্যতে পদার্থবিজ্ঞানে যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথ খুলে দিতে পারে।

ঘোস্ট পার্টিকেল আসলে কী

ঘোস্ট পার্টিকেল বা ভৌতিক কণা বলতে মূলত নিউট্রিনোকে বোঝানো হচ্ছে। এই কণার অদ্ভুত কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এমন নামকরণ করা হয়েছে। এদের ভর অত্যন্ত কম। এদের কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। এরা প্রায় আলোর গতিতে চলাচল করে। সহজে অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে এরা সংঘর্ষে জড়ায় না। আর প্রতি সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো আমাদের শরীর ভেদ করে চলে যাচ্ছে, অথচ আমরা টেরও পাচ্ছি না!

Visit salonsustainability.club for more information.

বরফের নিচে কেন এই গবেষণাগার তৈরি হয়েছে

নিউট্রিনো ধরা খুব কঠিন। তাই বিজ্ঞানীরা এমন জায়গা চান, যেখানে বাইরের শব্দ ও বিকিরণ কম থাকে, পরিবেশ স্থিতিশীল থাকে। দক্ষিণ মেরুর ঘন ও স্বচ্ছ বরফ এসব শর্ত দারুণভাবে পূরণ করে। তাই বরফের প্রায় এক কিলোমিটার গভীর আয়তনের মধ্যে হাজারো সেন্সর বসানো হয়েছে।

অ্যান্টার্কটিকার শীতলতম গবেষণাকেন্দ্রগুলোতে কী হয়
ঘোস্ট পার্টিকেল বা ভৌতিক কণা বলতে মূলত নিউট্রিনোকে বোঝানো হচ্ছে। এই কণার অদ্ভুত কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এমন নামকরণ করা হয়েছে। এদের ভর অত্যন্ত কম।

গবেষণায় কী পাওয়া গেল

প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে এই গবেষণা। প্রথমবারের মতো এর বড় সম্প্রসারণে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৬০০ নতুন যন্ত্র যুক্ত হয়েছে। ডিটেক্টর স্ট্রিং হয়েছে ৮৬ থেকে বেড়ে ৯২টি। নতুন সেন্সরে একাধিক ফটোসেন্সর রয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনটি অভিযানে বরফে গভীর গর্ত করে এগুলো বসানো হয়েছে।

এতে কী লাভ হবে

এই গবেষণার সম্প্রসারণের ফলে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অনেক জটিল বিষয় আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। যেমন, নিউট্রিনো কীভাবে রূপ বদলায়, তা বোঝা যাবে। নিউট্রিনো চলার সময় এক ধরন থেকে আরেক ধরনে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। একে নিউট্রিনো অসিলেশন বলা হয়।

দূর মহাকাশে নক্ষত্রের বিস্ফোরণ থেকে আসা সংকেত ধরা আরও সহজ হবে। মহাবিশ্বের জন্মলগ্ন সম্পর্কে নতুন অজানা তথ্য জানা যেতে পারে। বর্তমান তত্ত্বের বাইরে নতুন কোনো কণা বা ডার্ক ম্যাটারের খোঁজ পাওয়া গেলে সেটি পদার্থবিজ্ঞানে বড় বিপ্লব ঘটাতে পারে। শুধু নতুন তথ্য নয়, গত ১৫ বছরে সংগ্রহ করা পুরোনো তথ্যও নতুন ক্যালিব্রেশনের মাধ্যমে আরও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা যাবে।

অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে বসানো এই যন্ত্র শুধু কণা ধরছে না, এটি মহাবিশ্বের গভীরতম প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে। যে কণাকে আমরা ‘ভূত’ বলি, সেটিই হয়তো একদিন বলে দেবে মহাবিশ্ব ঠিক কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং এর ভেতরে এখনো কী কী রহস্য লুকিয়ে আছে।

লেখক: সাংবাদিকসূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাসঅ্যান্টার্কটিকা কি এককালে সবুজ অরণ্য ছিল?

Read full story at source