বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন
· Prothom Alo

আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরুর পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ১২ হাজার ৬৮৪ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে। আর রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বর্জ্য অপসারণ করেছে ৬ হাজার ৫০৪ টন। ঢাকার দুই সিটির জনসংযোগ বিভাগের সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে ডিএসসিসি বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। আর ডিএনসিসি শুরু করেছিল এর আধা ঘণ্টা পর বেলা ২টায়। এ হিসাবে ঢাকা দক্ষিণে ৭ ঘণ্টায় আর ঢাকা উত্তরে ৬ ঘণ্টায় এ পরিমাণ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটির পক্ষ থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরুর ৮ ঘণ্টার মধ্যে ঈদের প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ শেষ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ হিসাবে ডিএসসিসির বর্জ্য অপসারণ শেষ হওয়ার কথা রাত সাড়ে ৯টায়। আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, তারা নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই বর্জ্য অপসারণ শেষ করবে। এ হিসাবে তাদের কাজ রাত ২টার আগে শেষ হওয়ার কথা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এই প্রতিবেদক। এ সময় দেখা যায়, দুই সিটির বিভিন্ন এলাকায় অলিগলি ও রাস্তায় স্তূপ করে কোরবানি দেওয়া পশুর উচ্ছিষ্ট, কোরবানির কাজে ব্যবহৃত চাটাই ইত্যাদি রেখে দেওয়া হয়েছে। এ সময় বেশ কিছু এলাকায় ভ্যান সার্ভিসের কর্মী ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ভ্যানে ও পিকআপে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করতে দেখা গেছে। কিছু এলাকায় সন্ধ্যা ও রাতেও কোরবানির মাংস কাটাকাটি করতে দেখা যায়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডে জমে থাকা কোরবানির বর্জ্য। ঢাকা, ২৮ মেঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোড এলাকায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অন্তত ৫টি স্থানে কোরবানির বর্জ্য স্তূপ করে রাখতে দেখা গেছে। বিজয়নগরের জামান টাওয়ার এলাকায় পৌনে ৮টার দিকে নির্ধারিত স্থান থেকে করপোরেশনের কর্মীদের ট্রাকে বর্জ্য তুলতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে বিজয়নগর সাইহাম স্কাই ভিউ টাওয়ারের পেছনে বর্জ্য জমে থাকতে দেখা যায়। রাস্তার পাশে বর্জ্য জমে ছিল কাকরাইল, মালিবাগ মোড়, শান্তিবাগ ও মালিবাগের ভেতরের এলাকায়। এ ছাড়া খিলগাঁও বাগিচা এবং উত্তর শাহজাহানপুরের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য জমে ছিল।
ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন মধুবাগ, মহাখালী, নাখালপাড়া, তেজকুনীপাড়া ও ফার্মগেটের বিভিন্ন এলাকায়ও কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
প্রতিমন্ত্রী ও দুই সিটির প্রশাসকের কথা
ঢাকা উত্তরের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্ধারিত সময়ের (১২ ঘণ্টা) আগেই রাতের মধ্যে পুরো নগরীর বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ছাড়া আগামী দুই দিনও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে। কারণ, এখনো অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন এবং মাংস কাটার কাজ করছেন।
বেলা দুইটার দিকে মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের সিরামিক রোড এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটির বর্জ্য অপসারণ কাজ শুরু হয়। এ সময় ওই এলাকার বর্জ্য অপসারণের কাজ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নিয়েছেন এবং ৭৫২টি যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রশাসকসহ পুরো সিটি করপোরেশন দলের ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে।
মালিবাগের একটি গলিতে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে রাত ৮টায় যানজট। ঢাকা, ২৮ মেনগরবাসীকে স্বস্তি দিতে নিরলসভাবে কাজ চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা নির্ধারিত ব্যাগে বর্জ্য রেখে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঈদের দিন, পরের দুই দিনসহ টানা ৭২ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে।
দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ঈদের প্রথম দিনে মাঠপর্যায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৩ হাজার ৪৫৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম দিনে প্রায় ১৫ হাজার ৯৩৫ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের ৩ দিনে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি।