কোরবানির ঈদ ঘিরে পাটি, চাঁটাই ও গাছের গুঁড়ির বিক্রি বেড়েছে, দাম কেমন

· Prothom Alo

চাঁটাই হাতে নিয়ে দরাদরি করছিলেন জসিম উদ্দিন। বিক্রেতা প্রথমে দাম হাঁকলেন ৫০০ টাকা। কিছুক্ষণ দর-কষাকষির পর ৪০০ টাকায় মিলল চাঁটাইটি। এটি কাঁধে তুলে নিয়ে পাশের দোকানে গেলেন তিনি। সেখানে সারি করে রাখা গাছের গুঁড়ি। একটু দূরে বাঁশের টুকরি। মাটিতে আবার ছড়িয়ে রাখা খড়, ঘাস, ভুসি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার চিত্র এটি। আজ রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই শেষ সময়ে কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নগরবাসী। কেউ কিনছেন দা-বঁটি। কেউ নিচ্ছেন মাংস কাটার গুঁড়ি। আবার কেউ খুঁজছেন চাঁটাই, টুকরি কিংবা গরুর খাবার।

Visit bettingx.club for more information.

জসিম উদ্দিন এবার ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি দেশি গরু কিনেছেন। আনোয়ারা উপজেলার এক কৃষকের কাছ থেকে গরুটি এনেছেন তিনি। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ঈদের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ছুরি-বঁটি আগে কিনেছি। এখন চাঁটাই আর গাছের গুঁড়ি নিলাম।’

চকবাজারে অস্থায়ী দোকান সাজিয়ে বসেছেন ইছা মিয়া। সারা বছর সবজি বিক্রি করেন। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলেই বদলে যায় তাঁর ব্যবসা। তখন বিক্রি করেন মাংস কাটার নানা উপকরণ। তাঁর দোকানে রয়েছে ভুসি, খইল, খড়, চাঁটাই, টুকরি, গাছের গুঁড়িসহ নানা সামগ্রীও। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মাল তুলেছেন তিনি। ইছা মিয়া বলেন, ‘দুই দিন ধরে ভালো বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসতে হচ্ছে। বুধবার শেষ দিন। আশা করি যা আছে, সব বিক্রি হয়ে যাবে।’ দুই লাখ টাকা উঠবে কি না—জানতে চাইলে পাশে রাখা খড়ের স্তূপ দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে এই জায়গা ভরা ছিল। এখন তো প্রায় শেষ।’

ইছা মিয়া, বিক্রেতা।দুই দিন ধরে ভালো বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসতে হচ্ছে। বুধবার শেষ দিন। আশা করি যা আছে, সব বিক্রি হয়ে যাবে।

শুধু চকবাজার নয়, নগরের দেওয়ানহাট, আতুরার ডিপো, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, ব্যাটারি গলি, কাজীর দেউড়ি ও আগ্রাবাদ এলাকায়ও বসেছে এমন অস্থায়ী বাজার। ফুটপাতজুড়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি বিক্রেতারা। ক্রেতারাও শেষ মুহূর্তে ভিড় করছেন এসব দোকানে।

দেওয়ানহাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট, মাঝারি ও বড়—তিন ধরনের চাঁটাই বিক্রি হচ্ছে। দাম ২০০ থেকে ৬০০ টাকা। গরুর মাংস কাটার জন্য ব্যবহৃত গাছের গুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৪০০ টাকায়। সবুজ ঘাসের আঁটি ৫০ থেকে ১০০ টাকা। শুকনা খড়ও একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

দেওয়ানহাট মোড়ে বসেছিলেন মোহাম্মদ ইউনুছ। পেশায় দিনমজুর। ঈদ ঘিরে কয়েক দিনের জন্য শুরু করেছেন এই ব্যবসা। সামনে সাজানো চাঁটাই, টুকরি আর গাছের গুঁড়ি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘১৪ হাজার টাকার মাল তুলেছি। বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। সব বিক্রি হলে হাজার টাকার মতো লাভ থাকবে।’

খড় ও পাটি বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা। গতকাল বেলা ২টায় নগরের চকবাজারে

দেওয়ানহাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট, মাঝারি ও বড়—তিন ধরনের চাঁটাই বিক্রি হচ্ছে। দাম ২০০ থেকে ৬০০ টাকা। গরুর মাংস কাটার জন্য ব্যবহৃত গাছের গুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৪০০ টাকায়। সবুজ ঘাসের আঁটি ৫০ থেকে ১০০ টাকা। শুকনা খড়ও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ভুসির দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৯০ টাকা। বাঁশের টুকরির দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। পাটির দাম পড়ছে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা।

দা–ছুরি বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা। গতকাল বিকেলে নগরের সাগরিকা এলাকায়

বিবিরহাট পশুর বাজারেও ছিল একই চিত্র। মুরাদপুরের বাসিন্দা জুনাইয়েদ সিদ্দিক সম্প্রতি এই বাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় সাদা রঙের একটি গরু কিনেছেন। এরপর বাজারের পাশের দোকান থেকে কিনে নেন দা, ছুরি ও বঁটি।

বিবিরহাট পশুর বাজারের এক পাশে বসেছিলেন কয়েকজন মৌসুমি বিক্রেতা। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ঈদ সামনে রেখে দাম বাড়ানো হয়েছে কি না। জবাবে তাঁরা বলেন, এটি কয়েক দিনের ব্যবসা। বিক্রি না হলে পুরো মালই পড়ে থাকবে। তাই বাড়তি লাভের সুযোগ নেই। কম লাভেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

Read full story at source