নিভৃতে
· Prothom Alo

শেওলাধরা রেলিংয়ের ওপরে দাঁড়িয়ে পাশের বাড়ির ছাদে লাফিয়ে যাওয়ার সময়ে মুনিজার কামিজের শেষ প্রান্ত প্যারাস্যুটের মতো ফুলে ওঠে। বাতাসের বেলুন চুপসে গেলে দেখি পাশের বাড়ির আরেক শেওলাধরা কার্পেট-ছাদে সে দাঁড়িয়ে আছে। আমার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘কী হলো? ও রকম মা কালীর মতো জিব বের করে আছ কেন? লাফ দাও।’
Visit freshyourfeel.com for more information.
প্রায় কাঁপা গলায় বলি, ‘আমি পারব না, মুন!’
‘কী যে ভীতুর ডিম না তুমি! তোমাকে নিয়ে চলাফেরা করাই মুশকিল।’
অভিমানে বলতে ইচ্ছা করে, তাহলে না চললেই পারো। কিন্তু নিজেকে সামলে নিই, আমি তার সঙ্গ হারাতে চাই না। এমনকি মুনিজার সঙ্গে দিনরাত ঘুরতেও আমার ক্লান্তি আসবে না। আর তা ছাড়া আমি আমার প্রাণের বন্ধু দীপ্রর অনুরোধে এক মহান কাজে নিয়োজিত। মুনিজাকে দীপ্রর সঙ্গে ভিড়িয়ে দিতে হবে। তখনকার দিনে আমাদের পাড়াতো ভাষায় যাকে বলত লাইন; সোজা কথায়, ওদের মধ্যে লাইন করে দিতে হবে। একটা ঝমঝমে বৃষ্টির সন্ধ্যায় সিগারেটের দোকানে আটকে পড়ে একটার পর একটা সিগারেট খেতে খেতে দীপ্রকে আমি কথা দিয়েছি, ওদের মধ্যে লাইন করে দেব।
সবুজ কার্পেট-ছাদে দাঁড়ানো মুনিজার বিরক্ত মুখ দেখে আরেকবার ভাবি, দেখি না চেষ্টা করে! কয়েক পা এগিয়ে ছাদের সীমানায় যেই রেলিংয়ের পাশে ঝুঁকে তাকিয়েছি, দেখি দুটো তিনতলা বিল্ডিংয়ের মাঝখান দিয়ে দেখা যায় সরু সমতল। অনেক নিচে। খানিক আগে বৃষ্টি হয়ে প্যাঁচপেঁচে হয়ে আছে সব। রেলিং ধরলে শেওলার গাট্টির ওপরে হাত পড়তেই হাতটা ভিজে যায়। মুনিজা পাগল নাকি? দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানের সরু শূন্যতা দেখে আমার মাথায় একটা চক্কর দেয়। ওদিকের ছাদে পা না পড়লে সোজা নিচে। তারপর আমার শরীরটা টেনেহিঁচড়ে বের করতেও অন্তত পনেরো মিনিট লাগবে। এসব অলক্ষুনে কথা ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে, আমি লাফিয়ে যাব কেন? আমিও কি মুনিজার মতো ডিসির মেয়ে? আমারও কি না বলে পালানোর ঠেকা? আমি তো সিঁড়ি ধরে নিচে নেমে মুনিজাদের ড্রাইভারের সামনে দিয়েই হেঁটে যেতে পারি। আমার নিজের বাড়ি, হাজারবার বেরোতে পারি, ঢুকতে পারি। এ বাড়িতে ঢুকে এখানেই আছি জানিয়ে সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে ওদিকে কাঞ্চন নদের তীর ঘুরে আসার জন্য জীবনের এত বড় রিস্ক তো আমার নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না! আমি মুনিজার দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে সিঁড়ির দিকে ছুটি। মালদহপট্টির এই এলাকাটায় পরপর আট-দশটা একই উচ্চতার বাড়ি; পুরু দেয়াল আর তাতে সাঁটানো শেওলা।
এভাবে কত দিন যায় কে জানে। মুনিজাকে কখনো নিয়ে যাই টাউন হলের পাশে হেমায়েত আলী লাইব্রেরিতে। দীপ্র সেখানে বসে ভারী কোনো বই পড়ার ভান ধরে। মুনিজাকে বসিয়ে ‘আমার একটু কাজ আছে’ বলে আমি বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকি। গিয়ে দেখি তারা মূর্তি। কথা নেই কেন? ইশারা দিলে মুনিজাও ইশারায় নোটিশ দেখায়, ‘এখানে কথা বলা নিষেধ।’
রাস্তায় নেমে শিস দিই। মুনিজার ড্রাইভার আর পিয়ন শিসের শব্দে আকর্ষণ বোধ করে। আমাকে কখনো মুনিজার সঙ্গে কলেজের মাঠে দেখেছে কি না হয়তো এই ভেবে তাদের চোখ কুঁচকে আসে। সেদিকে লক্ষ না করে আমি শিসে জটিল সুর তোলার চেষ্টা করি আর সামনে তাকাই, দেখি মুনিজা কোন বাড়ি থেকে বের হয়। খানিক পরে চতুর্থ বাড়ির পাশের দিকের দরজা দিয়ে মুনিজা বেরিয়ে আসে। পেছনে তাকিয়ে দেখি ষন্ডাগোছের পিয়নটা আর ড্রাইভার গাড়ির দরজা খুলে বসে আছে। বৃষ্টির পরে ভ্যাপসা গরম, মুনিজার ভেজা–ভেজা হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিই, যেন তারা হুট করে পেছনে ঘুরলে দেখতে না পায়। তারপর রিকশায় চড়ে পুরোনো রেলের ব্রিজের দিকে।
কাঞ্চন নদের পুরোনো রেলব্রিজের ২ নম্বর পকেটে দীপ্র বসে আছে। আগে থেকেই কথা হয়ে আছে। গতকাল দীপ্র আমাকে আধা প্যাকেট সিগারেট ধরিয়ে দিয়ে কথা আদায় করেছে মুনিজাকে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার। তাই ছোট বোনকে কাজে লাগিয়ে মুনিজাকে বাড়িতে এনে এত কিছু। ব্রিজের পকেটে পা ঝুলিয়ে বসি আমরা। তিন জোড়া পায়ের নিচে পাহাড়ি উত্তাল স্রোত। কুলকুল শব্দের মাঝখানে আমরা ছোট ছোট কথা বলি। মুনিজা এতক্ষণ আমার সঙ্গে ফুলঝুরির মতো কথা বলছিল, কেন যেন মাঝখানে দীপ্র এসে পড়াতেই সে অন্যমনস্ক। কথার চেয়ে পায়ের নিচে সাদা ফেনায় তার মনোযোগ। আমি অস্থির হই, দীপ্রর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবে বলেই না মুনিজাকে আনা। মনে হয় প্রায় উচ্চারণ করেই ফেলি, এই মুন, কথা বলো না! আমার আধা প্যাকেট সিগারেট যে হালাল হবে না। পুনর্ভবা নদীর নাম কী করে কাঞ্চন নদে হলো, চারদিকে চিকচিক করা সোনালি রঙের চর বলে কি? কাঞ্চন নদের নামকরণ নিয়ে আমাদের কৌতূহলী আলাপে মুনিজা অংশই নেয় না।
এভাবে কত দিন যায় কে জানে। মুনিজাকে কখনো নিয়ে যাই টাউন হলের পাশে হেমায়েত আলী লাইব্রেরিতে। দীপ্র সেখানে বসে ভারী কোনো বই পড়ার ভান ধরে। মুনিজাকে বসিয়ে ‘আমার একটু কাজ আছে’ বলে আমি বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকি। গিয়ে দেখি তারা মূর্তি। কথা নেই কেন? ইশারা দিলে মুনিজাও ইশারায় নোটিশ দেখায়, ‘এখানে কথা বলা নিষেধ।’ কখনো মুনিজাকে নিয়ে যাই জামালের চায়ের দোকানে। ওপরে সরভাসা ঘন দুধ-চা সে পছন্দ করে। আমিও। শুধু দীপ্র আমাদের মাঝখানে বসে আদা-লংয়ের লাল চা খায়। জামাল ৩ ফুট উঁচু থেকে চায়ের লিকার ফেলে ঘন দুধের মধ্যে। ফেনিয়ে ওঠে কাপ। তাই দেখে আমার আর মুনিজার জিবে জল আসে। দীপ্রর তাতে কিছু যায়–আসে না। দীপ্র চোরা চোখে মুনিজাকে দেখে, এর বেশি কিছু না।
একদিন দীপ্র বলে, ‘ওকে যা বলতে চাই, সামনে দেখলে কিছুই যে বলতে পারি না। কী করি বল তো?’
আমি মাথা চুলকে বলি, ‘চিঠি লেখ।’
সে বলে, ‘চিঠি লিখতেও যে লজ্জা করে!’
‘ধুর, তোকে দিয়ে হবে না। এটা বাদ দে তো এবার...’, রাগ হয় আমার।
দীপ্র জাপটে ধরে আমাকে, ‘দোস্ত, তুই একটা কিছু কর। আমাকে বাঁচা।’
আমি গম্ভীরভাবে বলি, ‘ঠিক আছে আমিই লিখে দেব চিঠি। ছুটে আসবে দেখবি।’
বোনটা এ নিয়ে আমাকে আর লজ্জা দেয় না। সরে যায় সামনে থেকে। দুদিন পরে অচেনা এক খাম নিয়ে আসে। সে কী লম্বা চিঠি! সবকিছুর উত্তর আছে তাতে। শুধু ওপরে নাম নেই, আর শেষে লেখা, ‘শুদ্ধ, তোমার লেখা যে আমি চিনি। নিচে দীপ্রর নাম লিখেছ কেন?’ যে প্রশ্ন দিয়ে চিঠি শেষ হয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েই আমি জবাব লেখা শুরু করি।
তারপর তিন রাত ধরে লম্বা চিঠি লিখি। কত দিনের কত স্মৃতির কথা লিখি...মুনিজা, তোমাকে কী যে সুন্দর লাগছিল সেদিন, বলতে পারিনি। মুনিজা, তোমাকে কত যে কথা বলতে ইচ্ছা করছিল সেদিন, কিন্তু কী করি বলো, তোমাকে দেখলেই আমার বুকের স্পন্দন মাঝে মাঝে থেমে যায়, কে জানে কিছু বলতে গেলে বুঝি একেবারেই থেমে যাবে...আচ্ছা, হিমালয়ে ধাক্কা খেয়ে এই যে এত মেঘ এই শহরের ওপরে এসে বৃষ্টি ঝরায়, এই যে টানা তিন দিন বৃষ্টি...তোমার কি কখনো মনে হয় না আমাকে নিয়ে বৃষ্টির নিচে দাঁড়াবে! কখনো কি আমার হাত ধরে কাঞ্চনের তীর বেয়ে নদীটার উৎসের দিকে হেঁটে যেতে ইচ্ছা করে তোমার?
লিখতে লিখতে আবিষ্কার করি, কথাগুলো আমিই মুনিজাকে বলছি। আমিই বলছি, দীপ্র নয়। কিছুতেই নয়। চিঠির বাক্যে, শব্দে আমি মুনিজাকে দেখতে পাই, সবভাবে। মুনিজা হাসে, হাত নাড়ে, মাথা কাত করে হাসে। তার কোঁকড়া চুল ফুলে ফুলে দোলে। মুনিজা আমার হাত ধরে টেনে বৃষ্টির মাঝখানে দাঁড় করিয়ে দেয়। হাতে গুঁজে দেয় ভাঁজ করা ভেজা চিঠি। তাতে নীল কালির দাগগুলো ধুয়ে যায়, কী লিখেছিলে মুন? আমি অধীর হই। চিঠি লিখে কেউ ভিজিয়ে ফেলে? আশ্চর্য!
আমি চমকে উঠি। যেন সত্যিই হাতে ভেজা চিঠি আমার। মুঠো খুলে দেখে নিই। আমার আর মুনিজার মাঝখানে কোথাও দীপ্রকে পাই না। নিজেকে শুধরে নিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠি। বন্ধুর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমি। তার জন্য চিঠি লিখছি। নিজেকে মনে করাই, দীপ্র এ জীবনে কে জানে কতবার বলেছিল মুনিজাকে ছাড়া সে বাঁচবে না।
পরদিন চিঠি দিয়ে আসে ছোট বোন। এসে রিপোর্ট করে, মুনিজা নাকি বলে, ‘দীপ্র! তার সঙ্গে তো প্রায়ই দেখা হয়, আবার চিঠি কেন!’ বোনটা নাকি মুচকি হাসে তখন। তাই শুনে আমি রাগ করি, ‘হাসলি কেন? চিঠি একটা সিরিয়াস ব্যাপার।’ সে তখন খিলখিল করে হাসে।
‘আবার হাসলি?’
সে বলে, ‘শোনো, খামটা পাতলা কাগজের। ভেতরে তো তোমার হাতের লেখা। আমাকে গাধা মনে কর?’
জীবনে এতটা বিব্রত হইনি। লজ্জা কোথায় রাখব বুঝি না। বোনের দিকে তাকাতে পারি না। কোনো রকমে বলি, ‘শোন, লেখা আমার, তবে কথা দীপ্রর।’
‘বলেছে তোমাকে!’
বোনটা এ নিয়ে আমাকে আর লজ্জা দেয় না। সরে যায় সামনে থেকে। দুদিন পরে অচেনা এক খাম নিয়ে আসে। সে কী লম্বা চিঠি! সবকিছুর উত্তর আছে তাতে। শুধু ওপরে নাম নেই, আর শেষে লেখা, ‘শুদ্ধ, তোমার লেখা যে আমি চিনি। নিচে দীপ্রর নাম লিখেছ কেন?’ যে প্রশ্ন দিয়ে চিঠি শেষ হয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েই আমি জবাব লেখা শুরু করি। লিখতেই থাকি। আর কেন যেন আমি মুনিজাকে আনতে যাই না। সে-ই আসে কখনো, সামনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ড্রাইভার আর পিওন। আর কোনো ছাদে যায় না লাফিয়ে সে। কেমন যেন, নিজের ছোট্ট একটা গণ্ডিতে ডুব দিয়ে থাকে। যেন আমরা দুজনে গোপন কোনো রত্নভান্ডার পেয়েছি। কাউকে জানাই না, শুধু নিজেরা তার সৌন্দর্য ভোগ করি। দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকি, কখনো বাড়ির অন্য লোকেদের মাঝখানেই।
এই সবকিছু আজ এত বছর পরে মনে পড়ে গেল তুচ্ছ এক ঘটনায়। ছেলের স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে দেখি সেই একই স্কুলে দীপ্ররও মেয়ে পড়ে। স্কুলের সামনে অপেক্ষায় বহুদিন পরে বহু স্মৃতি ঝালাই হলো। শুধু মুনিজার কথা ঊহ্য থাকল। দীপ্রর ‘দোস্ত, তুই কোথায় হারায় গেলি বল তো? যোগাযোগ রাখলি না কেন?’ কথাটার আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না।
চিঠিতে যা যা লিখেছি আগের সপ্তাহে, সেসব কথা আমাদের চোখে লেখা থাকে। নির্বাক নিঃশব্দ কথোপকথন চলতে থাকে। কে জানত না-লিখে, না-বলে এত কথা বলা যায়! বলতে বলতে আরও বেশি নৈঃশব্দ্য আমাদের ঘিরে ধরে। কখনো চিঠি দিতে গিয়ে হাতের ছোঁয়া বাহুল্য মনে হয়, তবে সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে দিয়ে চলে যায়। আমরা আর পালিয়ে কাঞ্চনের তীরে যাই না, বড়জোর ছাদে যাই। কাঞ্চনের ব্রিজের পকেট আমাদের জন্য কাঁদে, দূরে দিগন্তের গাঁয়ে বটগাছটা কাঁদে। আমরা আর একাকী হই না, আবার একাকিত্ব কাটাতেও কোথাও যেতে হয় না, আমরা বরাবর একসঙ্গে থাকি। চিঠির অক্ষরগুলো আমাদের ভরিয়ে রাখে।
এই সবকিছু আজ এত বছর পরে মনে পড়ে গেল তুচ্ছ এক ঘটনায়। ছেলের স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে দেখি সেই একই স্কুলে দীপ্ররও মেয়ে পড়ে। স্কুলের সামনে অপেক্ষায় বহুদিন পরে বহু স্মৃতি ঝালাই হলো। শুধু মুনিজার কথা ঊহ্য থাকল। দীপ্রর ‘দোস্ত, তুই কোথায় হারায় গেলি বল তো? যোগাযোগ রাখলি না কেন?’ কথাটার আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। আমি আসলে দীপ্রকে এড়িয়ে চলেছি বহুদিন। তারপর একসময় সে-ও আর যোগাযোগের চেষ্টা করেনি, আমি বেঁচেছি। আমি কোনো দিন বলতে পারিনি, তোর জন্য না, আমি আসলে মুনিজাকে চিঠি লিখেছিলাম আমার জন্য, শুধু আমারই কথা বলেছিলাম তাতে। আর তারপর মুনিজা আমারই হয়েছিল। এটা কি বিশ্বাসঘাতকতা? কে জানে।
দীপ্র ফোন নম্বর দিল, নিলও। কেন যেন ইতস্তত করল। মুনিজার কথা জিজ্ঞেস করতে চায় কি? মুনিজার বাবা অন্য শহরে বদলি হয়ে যাওয়ার পরে তার সঙ্গে খুব বেশি হলে মাস ছয়েক যোগাযোগ ছিল আমার। তারপর জীবনের নতুন পরিবর্তনের কাছে আমরা দুজনেই হয়তো পরাজিত হয়েছি। সেসব অনেক আগের কথা। দীপ্র জানতে চাইলে আমিও হয়তো ধারাবাহিকভাবে বলতে পারব না।
কিন্তু এত দিন কখনো তো এতটা অপরাধী লাগেনি নিজের কাছে! আমি কি দীপ্রকে না জানিয়ে মুনিজাকে চুরি করেছিলাম?
এত দিন আগের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে দেখলে আনন্দে বুক ভরে ওঠার কথা। অথচ আমি যে ভেতরে ভেতরে কী ভীষণ ছোট হয়ে গেলাম, যেন দীপ্রর খুব প্রিয় কিছু গোপনে সরিয়ে ফেলেছি, আর নিজেও তা ধরে রাখতে পারিনি। দীপ্র বারবার বলে, ‘এই তো স্কুলের কাছেই আমার বাসা। ভাবিকে নিয়ে আসবি কিন্তু।’ আমি যন্ত্রের মতো ওপর-নিচে মাথা দোলাই। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জানি, দীপ্রর সামনে না যেতে পারলে আমি বেঁচে যাই।