দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হলো আন্তর্জাতিক আলোক দিবস

· Prothom Alo

আলো ছাড়া আমাদের জীবন এক মুহূর্তও কল্পনায় আসে না। সেই আলোকে উদ্‌যাপন করতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হলো আন্তর্জাতিক আলোক দিবস-২০২৬। দেশব্যাপী ১১ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত চলে আলোবিষয়ক বিশেষ কর্মসূচি ‘আলোর অমল কমলখানি’।

শিক্ষার্থীদের মনে বিজ্ঞানমনস্কতা, কৌতূহল এবং আলোকবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই চমৎকার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৮টি বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় আলোবিষয়ক বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান পরীক্ষণ প্রদর্শনী আলোর ঝিলিক এবং বিশেষ বিজ্ঞান বক্তৃতা।

Visit truewildslot.com for more information.

সারা দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। দেশের ৮টি বিভাগের ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলগুলো হলো চট্টগ্রামের রাউজানের চিকদাইর শাহাদাত ফজল যুব উচ্চবিদ্যালয়, খুলনার বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশালের মহাবাজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাজশাহীর গোবরাতলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, রংপুরের তাজহাট উচ্চবিদ্যালয়, সিলেটের পিডিবি উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকার উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর উচ্চবিদ্যালয়।

প্রতিটি আয়োজনেই শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় আলোবিষয়ক বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা। কুইজ শেষে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয় বিজ্ঞান পরীক্ষণভিত্তিক প্রদর্শনী আলোর ঝিলিক। এখানে আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, শোষণ, লেজার প্রযুক্তি এবং আলোর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ধর্ম হাতে-কলমে দেখানো হয়। শিক্ষার্থীরা খুব সহজে এবং আকর্ষণীয়ভাবে আলোর এসব ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারে। বিভিন্ন পরীক্ষণে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে তাদের চোখেমুখে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের ঝিলিক।

আন্তর্জাতিক আলোক দিবসে বিশেষ আয়োজন ১৬ মে

অনুষ্ঠানগুলোতে বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। তাঁরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমাপনী পর্বে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে আনন্দের সঙ্গে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক আলোক দিবসের আয়োজনের আরেকটি বড় অংশ ছিল বৈজ্ঞানিক পোস্টার প্রতিযোগিতা। সারা দেশের ৩০ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এরপর আন্তর্জাতিক আলোক দিবস উদ্‌যাপনের ধারাবাহিকতায় ১৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় আলোবিষয়ক বিশেষ বিজ্ঞান বক্তৃতা। ওই দিন বেলা ৩টায় ধানমন্ডির গ্রিন সিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই বক্তৃতায় আলো ও প্রযুক্তি নিয়ে দারুণ সব আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইনুল হোসেন।

বিজ্ঞান বক্তৃতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক আলোক দিবসের সমাপনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী। তিনি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘এ বছর আমরা একদম শেষ সময়ে এসে সারা দেশে আলোক দিবস উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিই। আটটি বিভাগের অনুষ্ঠান দেখে আমার খুবই ভালো লেগেছে। আর এই আয়োজন সফল করার জন্য আয়োজক, ম্যাগাজিন পার্টনার এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’

সব শেষে সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী মাইনুল হোসেনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সবার হাসিমুখের একটি সুন্দর গ্রুপ ছবি তোলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আন্তর্জাতিক আলোক দিবসের এই জমজমাট আয়োজন।

এই আয়োজনে ম্যাগাজিন পার্টনার ছিল কিশোর আলো এবং বিজ্ঞানচিন্তা।

শেষ হলো এনওয়াইবিবি জাতীয় আন্তঃস্কুল বায়োটেকনোলজি কুইজ প্রতিযোগিতা

Read full story at source