‘মানুষ হত্যাই নয়, মৃত্যুতেও উল্লাস করে কিছু লোক’—ফেসবুকে ফারুকী
· Prothom Alo

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন অঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করছেন নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, সহকর্মী ও ভক্তরা। কেউ তাঁর হাসিখুশি ব্যক্তিত্বের কথা বলছেন, কেউ বলছেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার কথা। আবার কেউ স্মরণ করছেন একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা।
কারিনাকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘যখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ডাক আসছিল, তুমি নির্দ্বিধায় দাঁড়াইছিলা, কারিনা। বাংলাদেশ তোমাকে মনে রাখবে। আর আমি মনে রাখবো তোমার উইটের কারণে, তোমার ডিলাইটফুল প্রেজেন্সের কারণে। তোমার সঙ্গে করা কাজ ৩৬-২৪-৩৬–এর কারণে।’
Visit newsbetting.club for more information.
ফারুকী আরও লেখেন, ‘তুমি যেদিন প্রথম আমাদের বাসায় আসো, সেদিন তুমি আমার আর তিশার সঙ্গে ছবি তুলতে চাইছিলা। বলছিলা, আমাদের ফ্যান তুমি। আমরা বলছিলাম, আমরা তোমার ফ্যান। তুমি লজ্জা পেয়ে হাসতেছিলা।’
কারিনার মৃত্যু প্রসঙ্গে আবেগঘন ভাষায় ফারুকী লেখেন, ‘মানুষ মরে গেলে নাকি সব সত্য দেখতে পায়। এখন নিশ্চয়ই তুমি বিশ্বাস করছো, আমরা তোমার অনেক বড় ফ্যান ছিলাম। অনেক অনেক কথা মনে পড়ছে। আল্লাহ, তোমাকে বেহেশত নসিব করুক, কারিনা।’
কারিনা কায়সারস্ট্যাটাসের শেষ অংশে ফারুকী লেখেন, ‘এই পোস্টে যদি হাহা দেখো, জানবা কিছু লোক শুধু মানুষ হত্যার জন্যই বিখ্যাত তা না, মৃত্যুতেও উল্লাস করার জন্য বিখ্যাত। ইউ নো দেম, বাংলাদেশ নোজ দেম। রেস্ট ইন পিস, মাই সিস্টার!’
শুধু ফারুকী নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারিনাকে নিয়ে শোক প্রকাশ করছেন বিনোদন অঙ্গনের আরও অনেকে। সহকর্মীরা লিখছেন, কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন কারিনা। তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি, হাস্যরস আর সহজভাবে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। অনেকে আবার স্মরণ করছেন অসুস্থ হওয়ার পরও তাঁর লড়াইয়ের কথা।
লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় গতকাল শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
কারিনার বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা–বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।