সীমানা নির্ধারণের পর পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার মা-মেয়ের লাশ নেওয়া হলো ফরিদপুরে

· Prothom Alo

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়নের শেষ সীমানা কালীতলা এলাকায় পুঁতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই লাশ নিয়ে যায় পুলিশ।

গতকাল বিকেলে গোয়ালন্দ ঘাট থানা–পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থল ছিল ফরিদপুর জেলার সীমানার মধ্যে। পরে দুই জেলার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বিত সিদ্ধান্তে গোয়ালন্দ ঘাট থানা–পুলিশ লাশ দুটি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

Visit tr-sport.click for more information.

নিহত দুজন হলেন গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া পরশউল্লাহ মাতুব্বরপাড়ার দিনমজুর আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তাঁদের চার বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার। মে চর দৌলতদিয়া হাট এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানির অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তাঁরা। অনুষ্ঠান শেষে থেকে মা ও মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ শনাক্ত করেন আমজাদ শেখ।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ৫ মে আমজাদ শেখ গোয়ালন্দ ঘাট থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি তাঁর ঘরে রাখা ইটভাটার দাদনের প্রায় এক লাখ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির কথা উল্লেখ করেন।

এদিকে গতকাল রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উজ্জ্বল শেখ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা–পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। উজ্জ্বল গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের শাহজাহান শেখের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক শ গজ দূরে তাঁর বাড়ি।

স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল দুপুরে কালীতলা গ্রামের স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুরপাড় থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক সেখানে যান। তাঁরা দেখতে পান, পুকুরপাড়ের মাটিতে পুঁতে রাখা মানুষের পা বের হয়ে আছে এবং আশপাশে কয়েকটি কুকুর ঘোরাঘুরি করছে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশকে জানান। পুলিশ গিয়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। পরে সেখানে উপস্থিত হন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম ও ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন। এ সময় পুকুরের মালিক হাকিম উল্লাহর পরিবারের সদস্য, জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় আমিন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হাজির করা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে লাশ পুঁতে রাখার স্থানটি ফরিদপুর জেলার মধ্যে পড়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল পুঁতে রাখা মা-মেয়ের লাশ

সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানের লাশ শনাক্ত করার পর ঘটনাস্থলে আমজাদ শেখ বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী সাভারের একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতাম। স্ত্রী জাহানারা শ্রমিকদের জন্য রান্নার কাজ করত। ভাটায় কাজ করার সময় উজানচর বকারটিলা গ্রামের ভাটাশ্রমিক উজ্জ্বল শেখের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস হয়েছে। নিজের ভুল বুঝতে পারবে ভেবে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছিলাম। ৪ মে নিখোঁজ হওয়ার পর ধারণা করি সে উজ্জ্বলের সঙ্গে পালিয়েছে।’

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল ফরিদপুর জেলার সীমানার মধ্যে হওয়ায় আমরা লাশ উত্তোলনের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাতে এলাকা থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা–পুলিশ উজ্জ্বল নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে।’

Read full story at source