বট বাহিনী: কৃত্রিম জনমত যেভাবে সমাজ ও রাজনীতিকে বদলে দিচ্ছে

· Prothom Alo

ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় বাংলাদেশে গত এক দশকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডিজিটাল দুনিয়া এখন শুধু মতপ্রকাশের ক্ষেত্রই নয়, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, জনমত নির্মাণ, বাণিজ্যযুদ্ধ—এমনকি চরিত্রহননের এক নতুন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এই যুদ্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো ‘বট বাহিনী’ বা ‘ট্রল আর্মি’ বা ‘বট ফোর্স’। বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব এবং এক্সে (সাবেক টুইটার) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন এক কৃত্রিম জনমতের বিস্তার ঘটেছে, যা বাস্তব সমাজের প্রতিফলন নয়; বরং পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রোপাগান্ডার ফল।

Visit rouesnews.click for more information.

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ দাবি করেছেন, দেশের সাইবার জগতের মোট ট্রাফিকের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বট বা কৃত্রিম কার্যকলাপ। তিনি বলেছেন, এই বাস্তবতা না বুঝে সাইবার বুলিং বা অনলাইন প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থেকেই যায়।

রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঁপিয়ে দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম!

সাম্প্রতিক সময়ের অনলাইন ট্রাফিক বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, অনলাইনে মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া ও ইন্টার‍অ্যাকশনের বড় অংশই প্রকৃত ব্যবহারকারীর নয়। অর্গানিক বনাম নন-অর্গানিক ট্রাফিক আলাদা করতে না পারলে সমস্যার মূল জায়গা চিহ্নিত করা কঠিন।

বট বাহিনীর এই উত্থান শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ বট ফার্ম ও ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই বিষয়কে ‘গুপ্ত ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্র’ বলে উল্লেখ করেন, যা ইসরায়েলের মাঠের সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি চলছে।

নেতানিয়াহু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনলেও ফিলিস্তিনে আগ্রাসন ও গণহত্যা চালাতে সম্মতি উৎপাদনের জন্য জায়োনিস্ট প্ল্যাটফর্মগুলো যেসব প্রোপাগান্ডা চালিয়ে থাকে সে ব্যাপারে কখনো কিছুই বলেন না। শুধু তাই নয়, ইসরায়েলের পক্ষ প্রচারণা চালাতে অনলাইনে বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সারদেরও টাকা দিয়ে থাকে ইসরায়েল। গাজা যুদ্ধের সময় এমন প্রচারণা চালাতে গিয়ে টাকা না পাওয়ায় কয়েকজন ইনফ্লুয়েন্সার বিষয়টি ফাঁস করে দেন।

রাজনীতিবিদ, সেলিব্রেটি (বিশেষত নারী), কনটেন্ট নির্মাতা, গণমাধ্যম, সাংবাদিকেরাও এখন এই ডিজিটাল আক্রমণের বড় শিকার। কারও ফেসবুক পোস্টে দেখা যায় শত শত বা হাজার হাজার ‘হা হা’ রিয়েক্ট, কিন্তু রিয়েক্ট দেওয়া আইডিগুলো খেয়াল করলে দেখা যায়, সেগুলো বিদেশি নামের। এগুলো মূলত বট আইডি, ফেইক আইডি তো অবশ্যই।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপ যত বেড়েছে, বট বাহিনীর সক্রিয়তাও তত দৃশ্যমান হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক ঘটনা, আন্দোলন কিংবা সংবেদনশীল সংবাদ প্রকাশের পর মুহূর্তেই হাজার হাজার অভিন্ন মন্তব্য, একই ধরনের ভাষা ও একই সুরের প্রচারণা চোখে পড়ে। এতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকেই মনে করেন, যেন পুরো সমাজ একটি নির্দিষ্ট মতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অথচ বাস্তবে এই জনমতের ঢেউয়ের বড় অংশই কৃত্রিম।

আমাদের সমাজে ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি বা তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি এখনো দুর্বল হওয়ায় বটনির্ভর প্রচারণা খুব সহজেই মানুষের আবেগ, রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সামাজিক বিভাজনকে প্রভাবিত করতে পারে।

বট কী?

‘বট’ শব্দটি এসেছে ‘রোবট’ থেকে। প্রযুক্তিগতভাবে এটি এমন সফটওয়্যার, যা মানুষের মতো আচরণ করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বটকে ব্যবহার করা হয় নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে—কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা চালাতে, কখনো প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে, আবার কখনো কৃত্রিম জনপ্রিয়তা তৈরির জন্য।

সাধারণত দুই ধরনের কার্যক্রম বেশি দেখা যায়। প্রথমত, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারনির্ভর বট, যেগুলো নির্দিষ্ট শব্দ বা পোস্ট শনাক্ত করেই মুহূর্তের মধ্যে মন্তব্য, শেয়ার বা প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির ফলে এখন এসব বট অনেক বেশি মানবসদৃশ ভাষা ব্যবহার করতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রকৃত ব্যবহারকারী আর বটের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দ্বিতীয়ত, রয়েছে মানবনিয়ন্ত্রিত ট্রল আর্মি। এরা বাস্তব মানুষ হলেও ভুয়া পরিচয়ে অসংখ্য অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। রাজনৈতিক দল, করপোরেট গোষ্ঠী কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের নির্দেশে তারা সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার, গালাগালি, চরিত্রহনন ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালায়। একজন অপারেটর কখনো কখনো ২০-৩০টি পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করে। নির্দিষ্ট সংকেত পেলেই তারা কোনো পোস্টে ঝাঁপিয়ে পড়ে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে।

ব্যান্ডওয়াগন ইফেক্ট

এই বট বাহিনীর আসল শক্তি শুধু প্রযুক্তি নয়, মানুষের মনস্তত্ত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন শত শত অভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়, তখন সাধারণ ব্যবহারকারীর মনে এমন ধারণা তৈরি হয় যে এটাই হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ব্যান্ডওয়াগন ইফেক্ট’। রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষায় এর নাম ‘অ্যাস্ট্রোটার্ফিং’; অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে মনে হয় এটি স্বতঃস্ফূর্ত জনমত। বাস্তবে এটি একধরনের ডিজিটাল প্রতারণা। এমনকি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মব তৈরির আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে বিতর্কিত বা হত্যাযোগ্য করার কাজটিও বট দিয়ে করা হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই কৌশল এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ডিজিটাল পেশিশক্তির প্রতিযোগিতায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল কেউই পিছিয়ে নেই।

ক্ষমতাসীন দল থেকে বিরোধী শক্তি—প্রায় সবাই এখন ডিজিটাল প্রচারণার এই যুদ্ধে যুক্ত। সরকার উন্নয়নের গল্প ও বিরোধীদের বদনাম প্রচার করছে আর বিরোধী পক্ষ সরকারের ব্যর্থতা সামনে আনছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রথমে ডিপফেক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হয়, পরে সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বট ব্যবহার করা হয়। ফলে সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সমাজে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের যে রাজনৈতিক প্রভাব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ধীরে ধীরে এমন এক জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের চেয়ে প্রোপাগান্ডা বেশি প্রভাবশালী। আশার কথা হলো, সচেতন লোকজন আজকাল বট বাহিনী বা বট ফোর্স চিনতে শুরু করেছে। তাই কিছু ক্ষেত্রে উল্টো চিত্রও দেখা গেছে। যেমন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হতে পারে।

ফেসবুকের জনমত আর মাঠের বাস্তবতা যে এক নয়, তা প্রমাণিত হয়েছে ভোটের ফলাফলে। অনলাইনে যে পক্ষকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে, বাস্তবে নির্বাচনী ফলাফল ছিল তার ঠিক বিপরীত। এতে প্রমাণ হয়েছে, বটের তৈরি করা কৃত্রিম জনপ্রিয়তা সব সময় বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে পারে না। মাঝেমধ্যে মীমাংসিত বিষয়কে মিথ্যা বানানোর চেষ্টা কিংবা টাইমিংয়ের হেরফেরে বট নিজেই হাসির পাত্রে পরিণত হয় এবং মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়। তবু ক্ষতি কম হচ্ছে না। কারণ, এই বট সংস্কৃতি সমাজে বিষাক্ততা বাড়াচ্ছে, মতপ্রকাশের পরিবেশ সংকুচিত করছে এবং তথ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ধ্বংস করছে।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মেটা তাদের বিভিন্ন অ্যাডভারসারিয়াল থ্রেট রিপোর্টে বাংলাদেশভিত্তিক একাধিক ‘কো–অর্ডিনেটেড ইনঅথেনটিক বিহেভিয়ার’ বা সিআইবি নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও অপসারণের কথা জানিয়েছে। এসব নেটওয়ার্কের সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তাদের কাজ ছিল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে কৃত্রিম সমর্থন তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো।

গুজব ও ভুয়া খবরের ভিড়ে আসল চিনি কেমন করে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, মানবাধিকার ইস্যু কিংবা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অনলাইন হামলার ঘটনাও বেড়েছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন কিংবা বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীদের ‘রাষ্ট্রবিরোধী, ‘বিদেশি এজেন্ট’ বা ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। ফলে প্রকৃত দাবি আড়ালে চলে গেছে, বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনুরূপভাবে সরকারের ভালো উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিরোধী বট বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

রাজনীতিবিদ, সেলিব্রেটি (বিশেষত নারী), কনটেন্ট নির্মাতা, গণমাধ্যম, সাংবাদিকেরাও এখন এই ডিজিটাল আক্রমণের বড় শিকার। কারও ফেসবুক পোস্টে দেখা যায় শত শত বা হাজার হাজার ‘হা হা’ রিয়েক্ট, কিন্তু রিয়েক্ট দেওয়া আইডিগুলো খেয়াল করলে দেখা যায়, সেগুলো বিদেশি নামের। এগুলো মূলত বট আইডি, ফেইক আইডি তো অবশ্যই।

কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুহূর্তেই তাদের বিরুদ্ধে ‘মাস রিপোর্টিং’ শুরু হয়। হাজার হাজার ভুয়া রিপোর্টের কারণে ফেসবুকের অ্যালগরিদম বিভ্রান্ত হয়ে অনেক সময় প্রকৃত সাংবাদিকের পেজ বা অ্যাকাউন্ট সীমিত করে দেয়। এতে দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠী লাভবান হয় আর সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। বটের ব্যবহার এখন রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে করপোরেট জগতেও প্রবেশ করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘বয়কট’ প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের বদনাম কিংবা কৃত্রিম জনপ্রিয়তা তৈরিতেও ভাড়া করা ট্রল বাহিনী ব্যবহার হচ্ছে। এতে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং বাজার প্রতিযোগিতা অনৈতিক হয়ে উঠছে।

বট চেনার উপায়

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে বুঝবেন, কোনটি প্রকৃত মতামত আর কোনটি কৃত্রিম প্রচারণা। কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে: কোনো পোস্ট প্রকাশের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শত শত মন্তব্য চলে আসা, একই ভাষায় অসংখ্য মন্তব্য, প্রোফাইলে বাস্তব জীবনের তথ্যের অনুপস্থিতি কিংবা অস্বাভাবিক ফ্রেন্ডলিস্ট। এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। তবে প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস তৈরি করা।

গণতন্ত্র শুধু ভোটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; এটি দাঁড়িয়ে থাকে মুক্ত মতপ্রকাশ, সত্য তথ্য এবং সচেতন নাগরিকের ওপর। হরতাল, সহিংসতা বা প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ যেমন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি কৃত্রিম জনমত তৈরির এই ডিজিটাল সংস্কৃতিও সমান বিপজ্জনক। কারণ, এটি মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে প্রভাবিত করে এবং বিভ্রান্তিকে সত্যের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

এই সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, মেটা, গুগলসহ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বাংলা ভাষা ও স্থানীয় বাস্তবতা বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংঘবদ্ধ ডিজিটাল অপপ্রচার ও ট্রল ফার্মের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, তবে সেই আইন যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের অস্ত্র না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি। স্কুল-কলেজ থেকেই তথ্য যাচাই, সমালোচনামূলক চিন্তা ও দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণের শিক্ষা দিতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে জোরে শোনা যাওয়া কণ্ঠই সব সময় সংখ্যাগরিষ্ঠের কণ্ঠ নয়। লাইক, শেয়ার বা মন্তব্যের সংখ্যা কখনো সত্যের মানদণ্ড হতে পারে না। বটের যান্ত্রিক প্রভাবে মানুষের বিবেক যেন হারিয়ে না যায়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গণতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে হলে কৃত্রিম জনমতের এই চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে।

  • ইয়াসির সিলমী সাংবাদিকতা ও যোগাযোগ বিষয়ক শিক্ষক

    মেইল: [email protected]

    মতামত লেখকের নিজস্ব

Read full story at source