নদীতে ভেসে যাওয়ার পর ভারতে বৃদ্ধের লাশ, শেষবার দেখার অপেক্ষায় স্বজনেরা

· Prothom Alo

দিনাজপুরে বাড়ির পাশে পুনর্ভবা নদীতে একটি জলকপাট–সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ইসমাইল হক (৬০)। বিকেল গড়িয়ে রাত বাড়লেও তিনি বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনেরা। কিন্তু দুই দিনেও তাঁর কোনো হদিস মিলছিল না।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

পরে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেশটিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সূত্র ধরে এগোতে থাকে পরিবারটি। অবশেষে লাশটিকে ইসমাইলের বলে শনাক্ত করা হয়।

নানা দৌড়ঝাঁপ ও ভোগান্তি শেষে নিখোঁজের ১১ দিন পর আজ মঙ্গলবার দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইসমাইলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা আছে।

ইসমাইলের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা কামদেবপুর গ্রামে। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১ মে তিনি মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন।

ইসমাইলের ছোট ছেলে হায়দার আলী গতকাল রাতে মুঠোফোনে বলেন, ১ মে বেলা তিনটায় ফিকা জাল (ঝাই জাল) নিয়ে পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ইসমাইল। অনেক রাত পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে না পেয়ে পরদিন শনিবার বিরল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। একই দিন বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে খোঁজ করে ব্যর্থ হয়। গত রোববার ভারতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদটি সীমান্ত–সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা আরমান ফেসবুকে প্রচার করেন। সংবাদটি জয়দেবপুরে থাকা ইসমাইলের আত্মীয় এনামুল হকের নজরে আসে। পরে তিনি ভারতের গঙ্গারামপুর থানায় গিয়ে ইসমাইলের লাশ শনাক্ত করেন।

হায়দার আলী বলেন, কামদেবপুরের লালমাটিয়া স্লুইসগেটের কাছে মাছ মারছিলেন তাঁর বাবা। সেখান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পরে ভারতে ঢুকেছে পুনর্ভবা নদী। গেটের কপাট (স্লুইসগেট) খুলে দেওয়ায় হয়তো বাবা ভেসে গেছে। তিন দিন পর বাবার লাশের ছবি দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন। ৫ মে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাবার লাশটি সেখান থেকে ফেরত আনার আবেদন করা হয়েছে।

তবে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা কিংবা নির্দেশনা পৌঁছেনি। এ বিষয়ে দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছি, সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত তাঁদের কাছেও এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে নদীতে লাশটি পাওয়ায় ভারতীয় আইন অনুযায়ী গঙ্গারামপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জেনেছি। এখন লাশ হস্তান্তর একটি প্রক্রিয়াধীন ব্যাপার।’

Read full story at source