র্যানকন অটোর ২৫% শেয়ার কিনল জাপানের মিতসুবিশি
· Prothom Alo

দেশে গাড়ি তৈরিতে এবার সরাসরি বিনিয়োগ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি করপোরেশন। তারা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় কৌশলগত বিনিয়োগ করবে। এরই অংশ হিসেবে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নিচ্ছে জাপানি এই প্রতিষ্ঠান।
Visit bettingx.bond for more information.
এত দিন র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ নিজেদের কারখানায় জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন থেকে গাড়ি এনে সংযোজন করত। এখন র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হলো মিতসুবিশি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের চার চাকার পরিবহন খাতে এটি এখন পর্যন্ত জাপানের সবচেয়ে বড় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই।
নতুন বিনিয়োগ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিতসুবিশির সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি, র্যানকন হোল্ডিংসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরীসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার দিয়ে শুরু
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৭ সালে দেশে যানবাহন সংযোজন শুরু করে। স্থানীয়ভাবে তারা প্রথম সংযোজন করে মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার। এরপর একে একে ফুসো বিএম১১৭ বাস, মার্সিডিজ ওএফ১৬২৩ বাস, প্রোটন এক্স৭০, জ্যাক ও জিএমসি ট্রাক ও পিকআপ ট্রাক সংযোজন করা হয়। গাজীপুরের গাড়ির এই কারখানা সম্প্রসারণে গত বছর প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি।
র্যানকন জানায়, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের যানবাহন উৎপাদন ও সংযোজন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি দেশে মিতসুবিশির জনপ্রিয় এক্সপ্যান্ডার মডেলের গাড়ি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। জাপানের মিতসুবিশির আউটল্যান্ডার মডেলের গাড়ি সংযোজনের মধ্য দিয়ে র্যানকন অটোর যাত্রা শুরু হয় ওই বছর। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে এই মডেল উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় র্যানকন অটো। বর্তমানে ৯৮ হাজার বর্গফুটের এ কারখানায় চার ধরনের গাড়ি সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মিতসুবিশির এক্সপ্যান্ডার মডেল ও প্রোটনের এক্স-৭০ মডেলের ব্যক্তিগত সংযোজন ও গাড়ি রং করা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাপানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মোটর গাড়ি উৎপাদন করতে যাচ্ছে। মিতসুবিশির মতো একটি বৈশ্বিক অটোমোবাইল কোম্পানি যখন বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করে, তখন এটি একটি বার্তা দেয়। আশা করছি এই বিনিয়োগ অন্যান্য বড় কোম্পানিকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলবে।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘চলতি বছর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই সম্ভবত দেশে প্রথম এফডিআই। আমরা আশা করি, এই যৌথ উদ্যোগ অন্যান্য দেশ থেকে অনেক নতুন সুযোগ নিয়ে আসবে। আগামী মাস থেকে আমরা টোকিওগামী ফ্লাইট শুরু করছি, যা আগে বন্ধ ছিল। এতে দুই দেশের যোগাযোগ ও ব্যবসা–বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে র্যানকন গ্রুপ বাংলাদেশে মিতসুবিশি মোটরস গাড়ির বিক্রয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশে অটোমোবাইল ভ্যালু চেইন ব্যবসায় অংশগ্রহণ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।’
র্যানকন হোল্ডিংসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, ‘মিতসুবিশি করপোরেশন সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫ শতাংশ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। এটি সম্ভবত বাংলাদেশে চার চাকার গাড়ি উৎপাদনে প্রথম সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ। আশা করি এই যৌথ উদ্যোগ অন্যান্য বৈশ্বিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।’