‘তখনই বুঝেছি, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’: সংসদে শাহাদাত হোসেন সেলিম

· Prothom Alo

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ‌জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘...তখনই আমরা বুঝে গিয়েছি, ‌ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’।

Visit esporist.com for more information.

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ের শাহাদাত হোসেন সেলিম এ কথা বলেন। এর আগে বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

শাহাদাত হোসেন সেলিম ঐকমত্য কমিশনের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‌‘এই মুহূর্তে ঘরে-বাইরে, সংসদে এবং রাজপথে ঐকমত্য কমিশন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের তেমন কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। আমাদের প্রথম মিটিংয়ে ডেকে তারা বোঝানোর চেষ্টা করেছে ভোটারদের বয়স ১৭ বছর করতে হবে, প্রার্থীদের বয়স ২৩ বছর করতে হবে এবং সংসদের মেয়াদ ৪ বছর করতে হবে। তখনই আমরা বুঝে গিয়েছি, ‌‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।’

বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান হিসেবে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‌‘আমরা সেই সময়ে বুঝে গেছি, ঐকমত্য কমিশনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে প্রলম্বিত করা, নির্বাচনকে বিলম্বিত করা। সেই সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে যিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন সালাহউদ্দিন সাহেব, তিনি অত্যন্ত চৌকস এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিষয়টির মোকাবিলা করে জাতিকে নির্বাচনের দিকে টেনে উঠিয়ে নিতে পেরেছেন এবং নির্বাচন হয়েছে।’

নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, যতটুকু ঐকমত্য পোষণ করেছি, ততটুকু আমরা বাস্তবায়ন করব। ৮৪টা প্রশ্নের মধ্যে প্রায় ৬৮টি প্রশ্নে আমরা ঐকমত্য হয়েছি।’

সেলিম বলেন, ‘সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী এক ব্যক্তি হতে পারবেন না, আমরা এটার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছি। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই... আমরা সেটাও মেনে নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আজকে যদি আমরা বলি যে, বিরোধী দলীয় নেতা এবং দলের প্রধান একজন হতে পারবেন না। যদি বলি, চিফ হুইপ এবং দলের নেতা একজন হতে পারবেন না। এটা কী শোভনীয় হবে? সেটা কী বাস্তবসম্মত হবে?’

স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা একদিন দেখলাম, ঐকমত্য কমিশনের যারা আছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীসহ অন্যরা, তাঁরা হঠাৎ করে চলে গেছেন এক ঘণ্টার জন্য মিটিং মুলতবি করে। এসে ওনারা একটা প্রস্তাব আনলেন আমাদের সামনে। ওই প্রস্তাব পেয়ে আমরা একেবারে হতভম্ব। আমরা দেখলাম, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির করার জন্য ওনারা যেভাবে প্রস্তাব দিয়েছেন নির্বাহী বিভাগকে একেবারে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করার জন্য। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল যখন ধারণা করেছে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, সেই ক্ষেত্রে কীভাবে বিএনপির হাত-পা বাধা যায়, সেই চেষ্টা করেছে।’ ঐকমত্য কমিশন কর্তৃক রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন এই সংসদ সদস্য।

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে

সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য ‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা’ চলছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশন যখন আমাদের ব্যস্ত রেখেছে; একদিকে তারা চেষ্টা করেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার জন্য, আরেকদিকে চেষ্টা করেছে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। এটা অসম চুক্তি।’

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ৫১ একর জমি ৪৮ বছরের জন্য দিয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিনিময়ে। ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার মতো বাংলাদেশে হাজারো এন্টারপ্রেনার আছে। চট্টগ্রাম বন্দর যদি নিজেরা করে দুই বছরের মাথায় এর অর্থ উশুল করা যেত।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কথা উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিডার কোনো সাফল্য নাই। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), যেটা চট্টগ্রামের হৃৎপিণ্ড; এটাকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এর বিরুদ্ধে তিনি যে কোনো প্রতিবাদে রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন।

মহাত্মা গান্ধীর ছাগল খেয়ে ফেলেছি, এটা মিথ্যা

নিজের নির্বাচনী এলাকার উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমার জন্মভূমি লক্ষ্মীপুরের করপাড়া গ্রামে। যে গ্রাম থেকে ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। আমরা ডাইরেক্ট অ্যাকশনে গিয়েছি। এই ডাইরেক্ট অ্যাকশনের প্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধী আমাদের গ্রামে এসেছেন। তিনি দীর্ঘদিন আমাদের গ্রামে অবস্থান করেছেন। দীর্ঘদিন গ্রামে অবস্থান করে তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। আমরা সেই গ্রামের উত্তরাধিকারী।’ তিনি বলেন, ‘যদিও বলা হয়, আমরা মহাত্মা গান্ধীর ছাগল খেয়ে ফেলেছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

Read full story at source