ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা নিয়ে বিডিপিএফের আলোচনা

· Prothom Alo

বাংলা দিনপঞ্জির নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ইন ফিনল্যান্ড (বিডিপিএফ)। গতকাল শনিবার ফিনল্যান্ড সময় দুপুর ১২টা এবং বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার শুরুতে আমন্ত্রিত সম্মানিত আলোচকেরা ও উপস্থিত জ্ঞানপিপাসু ও দেশপ্রেমিক দর্শক-শ্রোতাদের নান্দনিক আড্ডায় স্বাগত জানানোর পাশাপাশি নবনির্বাচিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিডিপিএফের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান অধ্যাপক মো. আবদুল হাই (সদস্য প্রোগ্রাম) এবং অধ্যাপক জি এম আতিকুর রহমান (সদস্যসচিব)। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিডিপিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক মো. মঞ্জুরে মওলা।

Visit mchezo.co.za for more information.

আলোচ্য বিষয় ‘বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা’ নিয়ে আজকের আলোচনায় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবাইদুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস ও দর্শনের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম।

বিডিপিএফের নান্দনিক আড্ডায় প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব দিয়ে সাজানো আলোচনায় আলোচকেরা যথাযথ বিষয়বস্তু নির্ধারণের মাধ্যমে মেধানির্ভর ও দূরদর্শী আলোচনা উপস্থাপন করেছেন, যা নিচের স্তবকগুলো পাঠ করলে সহজেই অনুমেয়।

যেমন প্রশ্ন-উত্তর পর্বে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান সমকালীন শিক্ষা নিয়ে বলেন, আধুনিক বর্তমান জগতে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার মতো শিক্ষার পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার মাধ্যমে ইউনিফায়েড শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা অতি জরুরি। এ ছাড়া তিনি বলেছেন, যে শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে, সেখানে আত্মা ও চিন্তার মেলবন্ধন প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা হবে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

অধ্যাপক মো. আবদুল হাইয়ের প্রশ্ন—সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত শিক্ষাপদ্ধতি আছে কি এবং বিডিপিএফের নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. সানাউল হকের প্রশ্ন—বর্তমান উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষকের অবশ্যই উচ্চতর ডিগ্রি থাকা উচিত কি না। উত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করা নিয়ে আলোচনা খুব স্বীকৃত, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং উচ্চপর্যায়ে শিক্ষকদের ডক্টরাল ডিগ্রি থাকা উচিতের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নেবেন এবং সার্কুলার অর্থনীতি পাঠ্যসূচিতে সংযুক্ত করা নিয়ে আলোচনার কথা বলেন। এ ছাড়া বিডিপিএফের নির্বাহী কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান সদস্য অধ্যাপক ডক্টর আনিসুর রহমান ফারুকের প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থাকে এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে অবশ্যই বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জয়েন্ট রিসার্চ অ্যান্ড স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের কথা ভাবছে এবং প্রয়োজনে বিডিপিএফের সহযোগিতা কামনা করে।

বাংলাদেশে আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণ করেন বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, সমাজকর্মী, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক আনিসুর রহমান, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক নূরুল আলম, জ্যেষ্ঠ গবেষক কামরুল হোসেন, ফারুক, অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার, জ্যেষ্ঠ গবেষক সুনীল কুণ্ডু, ইউআইটিএসের অধ্যাপক ইশতিয়ার আরিফ, অধ্যাপক কায়সার আলী, শের-ই-খোদা, অধ্যাপক আরিফুর রহমান, গবেষক জুলিয়াস ফ্রান্সিস গোমেজ, গবেষক এ কে এম সাইফুল্লাহ, গবেষক সানাউল হক, গবেষক শাকের আহমেদ, গবেষক মীর সালাম, মো. ফেরদৌস লিটন খান, শাহরিয়ার মাহমুদ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক যথাক্রমে মো. আবুল হাশেম এবং আহমদ খায়রুল হাসান, গবেষক লাবনি খাতুন, অধ্যক্ষ মো. আবদুল মান্নান, সফটওয়্যার প্রকৌশলী নূরুল হুদা রবিন, উদ্যোক্তা মো. নাহিদুল ইসলাম ও এহসানুল হক, সাংবাদিক মনোয়ারা বেগম মনি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিজেভি স্টুটবার্গ এবং উদ্যোক্তা ও গবেষক মো. আবদুর রহমান (রাজু)।

বক্তারা প্রাণবন্ত আলোচনায় সম্মিলিতভাবে মত দেন, শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের অঙ্গ নয় বরং একটি ভিত্তিস্বরূপ। তাই শিক্ষার সঠিক সংস্কারের সঙ্গে এবং নতুন সার্কুলার অর্থনীতির পাঠদান ও এক্সপার্টদের সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় কাজে লাগানো ছাড়া জাতিকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

Read full story at source