স্বামীরা আগে ঘুমিয়ে পড়েন, কেন সহজে ঘুম আসে না নারীদের

· Prothom Alo

অনেক নারীই অভিযোগ করেন, স্বামী কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়েন। আর তারা জেগে থাকেন দীর্ঘক্ষণ। এটি অভ্যাস নয়, বরং শরীর ও মনের জটিল প্রক্রিয়ার ফল, বলছে গবেষণা।

Visit freshyourfeel.org for more information.

রাতের বেলা দিনের গল্প করতে করতে হঠাৎ দেখলেন পাশের মানুষটি ঘুমিয়ে পড়েছেন, এ অভিজ্ঞতা অনেক নারীরই পরিচিত। প্রশ্নটা তখনই আসে, পুরুষ এত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে কীভাবে। আর নারীদের ঘুম আসতে দেরি হয় কেন?

ঘুম বিশেষজ্ঞ ড. ক্রিস্টোফার জে অ্যালেন-এর মতে, এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু জৈবিক ও মানসিক কারণ, যা নারীদের ঘুমকে তুলনামূলকভাবে হালকা ও ভঙ্গুর করে তোলে।

হরমোনের প্রভাব সবচেয়ে বড়

নারীদের শরীরে হরমোনের ওঠানামা অনেক বেশি। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন—এই দুই হরমোন ঘুমের গভীরতা নিয়ন্ত্রণ করে। মাসিকের আগে প্রোজেস্টেরন কমে গেলে ঘুম হালকা হয়ে যায়, বারবার ঘুম ভেঙে যায়। আবার মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন কমে গেলে ঘুম আরও অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

শুধু শরীর নয়, মনও বড় ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় বেশি ভোগেন। আর এই মানসিক চাপ সরাসরি ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষরা চাপের মধ্যেও তুলনামূলক দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারেন, কিন্তু নারীদের মস্তিষ্ক তখনও সক্রিয় থাকে—ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।

সবসময় ‘সতর্ক’ মস্তিষ্ক

পরিবারের যত্ন, সন্তানের দেখভাল, দৈনন্দিন দায়িত্ব—এই সবকিছু মিলিয়ে অনেক নারীর মস্তিষ্ক কখনো পুরোপুরি বিশ্রামে যায় না। এমনকি ঘুমের মধ্যেও তারা এক ধরনের ‘সতর্ক অবস্থায়’ থাকেন। ফলে ঘুম হয় হালকা এবং সহজেই ভেঙে যায়।
তাহলে সমাধান কী?

যদিও এই কারণগুলো প্রাকৃতিক, তবুও কিছু অভ্যাস বদলালে ঘুমের মান উন্নত করা সম্ভব। নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক রাখা, ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা—এসব ছোট অভ্যাস বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, নারীদের ঘুম কম বা হালকা হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়; এটি শরীরের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। বিষয়টি বোঝা এবং সে অনুযায়ী যত্ন নেওয়াই ভালো ঘুমের প্রথম ধাপ।

ছবি: এআই

Read full story at source