তরুণদের কাজে লাগানো যাচ্ছে না, জনমিতির সুবিধা মিলছে না
· Prothom Alo

বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের হার মোট জনসংখ্যার ৫৬ থেকে ৫৮ শতাংশ। কিন্তু কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে থাকা তরুণদের বড় অংশকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই জনমিতির সুবিধা পুরোপুরি নেওয়া যাচ্ছে না। এমনকি এ অঞ্চলের দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
Visit grenadier.co.za for more information.
আজ শনিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের এক অধিবেশনে এ তথ্য উঠে আসে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে আয়োজিত অধিবেশনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার এ তথ্য তুলে ধরেন। সানেমের ৯ম সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘পরিবর্তিত বিশ্বে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জসমূহ এবং নীতিগত পদক্ষেপ’।
অর্থনীতির ভাষায় জনমিতির সুবিধা বলতে বোঝায় জনগোষ্ঠীতে যখন কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি থাকে। এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। তাদের কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন করে বিভিন্ন দেশ। উন্নয়নের এক পর্যায়ে বয়স্ক বা নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তাদের নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিতে হয়। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, ২০৩৩ সাল পর্যন্ত জনমিতির সুবিধা থাকবে।
অনুষ্ঠানে সানেমের চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা উচিত। এতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি বাড়বে ৯ শতাংশের বেশি। একইভাবে সামাজিক নিরাপত্তায় জিডিপির ৬ শতাংশ ব্যয় করলে কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশের বেশি। বিনিয়োগের বড় উৎস হিসেবে পেনশনকে কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, জনমিতির সুবিধা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা নেওয়ায় এই অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গড় বার্ষিক মাথাপিছু আয়ে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে দশমিক ৭২ শতাংশ। যেখানে এশিয়ার প্রবৃদ্ধির গড় হার ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর চীনে এ হার ১ দশমিক ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ আঞ্চলিক গড়ের চেয়ে প্রায় অর্ধেক পিছিয়ে আছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন উদ্বোধনী অধিবেশনের পর সামষ্টিক অর্থনীতির সেশনটি শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম।
এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) গবেষণা পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. দীন ইসলাম। এখানে মোট চারটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়।