শিবির ও হল সংসদ নেতারা জোর করে চালালেন কক্ষে তল্লাশি, ৩ জনের আবাসিকতা বাতিল

· Prothom Alo

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একটি কক্ষে ‘নারী অবস্থান করছেন সন্দেহে’ ভোররাতে ‘জোর করে’ তল্লাশি করেছেন ছাত্রশিবির কর্মী ও হল সংসদের নেতারা। এ ঘটনায় ওই হলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সহ তিনজনের আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় হলের সহসভাপতিকে (ভিপি) কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Visit chickenroad.qpon for more information.

আজ রোববার ভোর চারটার দিকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন ওই হল সংসদের এজিএস মো. ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সাকিব জুবায়ের ও আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ফোরকান হাফিজ। তাঁরা সবাই শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত।

শহীদ জিয়াউর রহমান হল সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার হলের ১২১ নম্বর কক্ষে নারী অবস্থান করছেন সন্দেহে ভোর সাড়ে চারটার দিকে জোর করে তল্লাশি চালান হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইনসহ কয়েকজন শিবিরকর্মী। পরে তাঁরা সেখানে কাউকে না পেয়ে ফেরত আসেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমানের কার্যালয়ে একটি সভা বসে। সভায় উপস্থিত শিবির সমর্থক হল সংসদের নেতাদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

হলের এজিএসসহ কয়েকজন অনুপস্থিত থাকায় সভাটি স্থগিত হয় এবং পরে রাত ১১টায় আবার শুরু হয়। এ সময় হল প্রাধ্যক্ষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবার রহমান। টানা কয়েক ঘণ্টা আলোচনা শেষে ওই তিনজনের আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করে হল প্রশাসন।

এ বিষয়ে হল প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার আনুমানিক ভোর পাঁচটায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে নারী প্রবেশের অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে তিন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো এবং হল ভিপি মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনে তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমাদানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ থাকবে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অভিযান চালানো কক্ষের শিক্ষার্থী আলিম মৃধা বলেন, ইসরাফিলসহ কয়েকজন দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দেন। তাঁরা ঘুমিয়ে থাকায় দরজা খুলতে দেরি হয়। পরে তারা জোর করে রুমে ঢুকে বলেন, এখানে মেয়ে আছে। তবে তল্লাশি করে কাউকে না পেয়ে চলে যান।

একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থী সন্দীপ কুমার শীল বলেন, ‘দরজা খোলার পর দেখি তাঁরা মোবাইলে ভিডিও চালু রেখেছে। তাঁরা বারবার বলছিল রুমে মেয়ে আছে এবং তল্লাশি করবে। পরে জোর করে রুমে ঢোকে।’ তিনি অভিযোগ করেন, কিছু না পাওয়ার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইন বলেন, একটি জায়গা থেকে হলে মেয়ে আনার তথ্য পেয়েছিলেন। পরে ভিপি ও জিএসের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করতে যান। তবে সেখানে এমন কিছু পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবার রহমান বলেন, হল সংসদ বা প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়া কেউ কোনো শিক্ষার্থীর কক্ষে তল্লাশি চালাতে পারে না। যেহেতু এটি হলসংক্রান্ত বিষয়, তাই হল প্রশাসন আগে ব্যবস্থা নেবে। অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমান প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর। কোনোভাবেই মব তৈরি করে কাউকে হেনস্তার সুযোগ দেওয়া হবে না।

Read full story at source