বিশ্বব্যাংকের মতো জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিল এডিবি, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪%
· Prothom Alo

বিশ্বব্যাংকের মতো জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার হবে ৯ শতাংশ।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক এপ্রিল সংস্করণে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর আগে এডিবির গত সেপ্টেম্বর সংস্করণে চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এখন তা কমিয়ে দেওয়া হলো।
তবে এডিবি আরও বলছে, পরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে।
এডিবি বলছে, জাতীয় নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এসেছে। ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে গত বুধবার বিশ্বব্যাংক বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো ভুগছে। জ্বালানিসংকট প্রকট হচ্ছে। এসব কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পার বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো সংস্থাগুলো।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী, মানুষের কী কাজে লাগে
জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলো একটি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক আকার বা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় কত শতাংশ বৃদ্ধি পেল, তার পরিমাপ। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য বা উন্নতির অন্যতম প্রধান সূচক।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যই জিডিপির আকার।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লে সাধারণত মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতি সচল থাকে। তবে অনেক সময় প্রবৃদ্ধি বাড়লেও মানুষের জীবনযাত্রার মান বা প্রকৃত আয় সেই হারে বাড়ে না। এ জন্য উন্নয়নের সুফল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তথা গরিব মানুষকে পেতে হবে।
এ বছর মূল্যস্ফীতি ৯%
এডিবির ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াবে ৯ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১০ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে।
কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। সম্প্রতি কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে এখনো সাড়ে ৮ শতাংশের আশপাশে মূল্যস্ফীতি ঘোরাঘুরি করছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে। তাঁদের অনেকে নিজেরা দারিদ্র্য অবস্থা কাটাতে পারছেন না।
বাংলাদেশ সম্পর্কে এডিবি বলেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমে যায়। সামগ্রিক চাহিদা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি শ্রম অসন্তোষ, বারবার বন্যা ও কঠোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির কারণেও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে চাপ পড়ে। সরবরাহসংকটের কারণে মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়েই স্থির থাকে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চলতি হিসাবের ভারসাম্য মোটামুটি ভালোই ছিল। ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এডিবি বলছে, ভোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এসেছে। ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে পারে, যদিও চলতি হিসাবে আবার সামান্য ঘাটতি সৃষ্টির আশঙ্কা আছে।