আমদানি বৃদ্ধি ও পণ্য রপ্তানি কমায় বাণিজ্যঘাটতি বেড়ে হয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলার
· Prothom Alo

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্যঘাটতি বেড়ে ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৬৯১ কোটি মার্কিন ডলার হয়েছে। এই বাণিজ্যঘাটতি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২০ কোটি বা ৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ব্যালান্স অব পেমেন্টের (বিওপি) সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্য-পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ায় কারণে ব্যালান্স অব পেমেন্টের ঘাটতি বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। না হলে ব্যালান্স অব পেমেন্ট আরও বেশি হতে পারত।
Visit moryak.biz for more information.
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। মূলত চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস অর্থাৎ আগস্ট থেকে পণ্য রপ্তানি কমছে। শীর্ষ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে।
পণ্য রপ্তানি কমলেও আমদানি বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৪৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানি হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্যঘাটতি বাড়লেও দেশের চলতি হিসাবের ব্যালান্সে সামান্য উন্নতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের আট মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি কমে হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
সাধারণভাবে চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।
একইভাবে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়কালে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৪৩ কোটি ডলার।
মূলত ট্রেড ক্রেডিটের কারণেই আর্থিক হিসাবে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ট্রেড ক্রেডিটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি ১১২ কোটি ডলার কম ছিল। ট্রেড ক্রেডিট ইতিবাচক হওয়ার অর্থ, আগের রপ্তানির বকেয়া অর্থ দেশে ঢুকেছে। এটি ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ, রপ্তানি আয়ের অর্থ আসা কমছে। তার মানে বকেয়া বাড়ছে।
দেশে আন্তর্জাতিক সম্পদের মালিকানা হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি পরিমাপ করা হয় আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে। সাধারণত এই হিসাবে ঘাটতি তৈরি হলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তথা মজুত ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। ডলার-সংকট তীব্র হয়ে ওঠায় দেড় দশকের মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতে প্রথমবারের মতো এ হিসাবে ঘাটতি দেখা দেয়।