বিদ্যুৎ–বিভ্রাটেও স্মার্ট এসি দুশ্চিন্তা কমাবে যেভাবে
· Prothom Alo

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসি চালানো মানেই একরাশ দুশ্চিন্তা। একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে বিদ্যুতের ভোল্টেজের অস্বাভাবিক ওঠানামা। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে পুড়ে যেতে পারে দামি ইলেকট্রনিক পণ্যটি।
Visit newssport.cv for more information.
অতীতে এসি কেনা মানেই ছিল সঙ্গে বিশাল ও ভারী এক স্ট্যাবিলাইজার ফ্রি পাওয়া বা আলাদাভাবে কেনা। বর্তমানে বাজারে আসা আধুনিক ‘স্মার্ট এসি’ বিদ্যুৎ–বিভ্রাটে এখন নিজেই নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।
ভোল্টেজ ফ্লাকচুয়েশন
আমাদের দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব এবং লাইনে ভোল্টেজের আকস্মিক পরিবর্তন এসির কম্প্রেসরের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। ভোল্টেজ যদি খুব কমে যায়, তবে কম্প্রেসর চালু হতে পারে না এবং অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। আবার ভোল্টেজ হঠাৎ বেড়ে গেলে অভ্যন্তরীণ সার্কিট পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্ট এসিগুলোতে যুক্ত হয়েছে ‘হাই ভোল্টেজ প্রটেকশন’ প্রযুক্তি।
ইন্টেলিজেন্ট পিসিবি: এসির মস্তিষ্ক ও রক্ষাকবচ
আধুনিক স্মার্ট এসিগুলোতে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংবেদনশীল প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবিকে ‘এসির মস্তিষ্ক’ বলা যেতে পারে। আগেকার সাধারণ পিসিবি যেখানে নির্দিষ্ট সীমার বাইরের ভোল্টেজ সামলাতে পারত না, সেখানে স্মার্ট এসির পিসিবি ১৫০ থেকে ২৮০ ভোল্ট (মডেলভেদে ভিন্ন হতে পারে) পর্যন্ত ওঠানামা অনায়াসেই হজম করতে পারে। এটি বিদ্যুৎপ্রবাহের গতিবিধি প্রতিমুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলেই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।
স্মার্ট এসির ভেতরে থাকা সেন্সরগুলো বিদ্যুতের ভোল্টেজ মনিটর করার কাজে নিয়োজিত থাকে। এই সেন্সরগুলোর কারণে এসি বিভিন্নভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। যেমন—
পাওয়ার রেগুলেশন: যদি ভোল্টেজ সামান্য এদিক-সেদিক হয়, তবে পিসিবি নিজেই বিদ্যুৎপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এসির যন্ত্রাংশগুলোকে সচল রাখে।
অটোমেটিক কাট-অফ: যখন ভোল্টেজ সহনসীমার বাইরে চলে যায়, তখন সেন্সর মুহূর্তের মধ্যে কম্প্রেসর ও মাদারবোর্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে এসির অভ্যন্তরীণ কোনো যান্ত্রিক ক্ষতি হয় না।
অটো রিস্টার্ট: ভোল্টেজ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে স্মার্ট এসি নিজে থেকেই চালু হয়, যা ব্যবহারকারীকে বারবার রিমোট চাপার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেয়।
স্ট্যাবিলাইজারের দিন কি তবে শেষ
নতুন প্রজন্মের স্মার্ট এসিগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এগুলোর জন্য আলাদা স্ট্যাবিলাইজারের প্রয়োজন হয় না। একে বলা হয় ‘স্ট্যাবিলাইজার ফ্রি অপারেশন’। এর ফলে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়—
সাশ্রয়: বাড়তি টাকা খরচ করে স্ট্যাবিলাইজার কেনার প্রয়োজন নেই।
সৌন্দর্য: ঘরের দেয়ালে এসির পাশে বড় ও কদর্য কোনো যন্ত্র ঝুলিয়ে রাখতে হয় না।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়: স্ট্যাবিলাইজার নিজেও কিছুটা বিদ্যুৎ খরচ করে। সেটি না থাকায় মাস শেষে বিল কিছুটা কম আসে।
একটি ভালো মানের এসি এক দশকের বেশি সময় সার্ভিস দিতে সক্ষম, যদি তার কম্প্রেসর সুরক্ষিত থাকে। স্মার্ট এসির এই বিল্ট-ইন প্রটেকশন সিস্টেম যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকি কমিয়ে আনে প্রায় শূন্যের কোঠায়। ফলে মেরামত বা যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের পেছনে বাড়তি বিনিয়োগের দুশ্চিন্তা আর থাকে না।
প্রযুক্তি এখন মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি টেকসই করার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের বৈরী বিদ্যুৎ–ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে হাই ভোল্টেজ প্রটেকশনযুক্ত স্মার্ট এসি কেবল বিলাসিতা নয়; বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ। যাঁরা চলমান গরমে নতুন এসি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য কেবল কুলিং ক্ষমতা নয়; বরং প্রটেকশন সিস্টেম ও পিসিবির গুণমান যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।