হাম কী, কেন ও কীভাবে ছড়ায় এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন শিশুর হাম হলে কী করবেন

· Prothom Alo

সম্প্রতি অভিভাবকেরা শিশুর জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, হাসপাতালে ভিড় করছেন। এই শিশুদের অনেকেরই হাম শনাক্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের অনেক জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, বেশ কিছু শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকসহ শিশুচিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনসহ সবাই উদ্বিগ্ন। পত্রপত্রিকায়ও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জানা থাকা উচিত, হাম কী, কেন ও কীভাবে ছড়ায় এবং শিশুর হাম হলে কী করবেন।

Visit afnews.co.za for more information.

হাম মূলত ‘রুবেলা’ নামের এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ

হাম কী

হাম মূলত ‘রুবেলা’ নামের এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ। উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, রক্তবর্ণের চোখ এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে হাম আবির্ভূত হয়।

রুবেলা ভাইরাসটি শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে হামে আক্রান্ত হলে শিশু এর বাইরেও নানা রকম ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সহজে সংক্রমিত হয়।

হামের জটিলতায় আরও যা হতে পারে

হামের জটিলতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রায়ই নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া হতে পারে।

এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুর শরীরে ভিটামিন এ–এর মজুত মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে শিশুর চোখের পানি কমে যায় বা চোখ শুষ্ক হয়ে যায়, এ থেকে রাতকানা থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর কানপাকা, মুখে ঘা, মারাত্মক অপুষ্টি, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ আরও অনেক রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কীভাবে ছড়ায়

ডেমরা থেকে আসা হামে আক্রান্ত ৯ মাস বয়সী ইমতিয়াজ আকন্দকে ২৬ মার্চ মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সম্প্রতি হাসপাতালে শয্যাপাশে শিশুটির মা

হাম খুবই ছোঁয়াচে। হাঁচি, কাশির মাধ্যমে মুহূর্তেই হামের ভাইরাস আক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে আশপাশে থাকা অনেক সুস্থ্ শিশুকে আক্রান্ত করতে পারে। এর ফলে এটি এলাকাজুড়ে ছড়াতে পারে।

হামের টিকা

বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের দুবার ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। একবার ৯ মাস বয়সে আর দ্বিতীয়টি ১৫ মাস বয়সে। ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৮৮ শতাংশ দুই ডোজ ‘এমআর’ টিকা নিয়েছে। তারা প্রায় সারা জীবনের জন্য হামের সংক্রমণ থেকে মুক্ত।

টিকা নেওয়ার পরও হাম হচ্ছে কেন

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা

দুই ডোজ টিকা পাওয়ার পরও কেন আবার হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে? এর কারণ, এখনো অনেক জায়গায় অনেক শিশু এই ‘এমআর’ টিকা পায়নি বা টিকা দেওয়ার জন্য তাকে টিকাকেন্দ্রেই নিয়ে যাওয়া হয়নি; কেউ কেউ একটা নিয়েছে। এর ফলে এসব টিকাবঞ্চিত শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন বেশি, আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যে ছড়ানোর আশঙ্কাও অনেক বেশি।

অনেক সময় টিকা প্রাপ্তের শরীরে আশানুরূপ হাম প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি না হলেও সে পুনরায় হামে আক্রান্ত হতে পারে।

অভিভাবকের করণীয়

কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুর শরীরে র‍্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।

এ সময় আক্রান্ত শিশুর খাবার, পানীয় ও অন্যান্য স্বাভাবিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকসহ তাকে পরপর দুই দিন দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজে খাওয়াতে হবে।

কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

হামে আক্রান্ত শিশুর যদি কোনো বিপদচিহ্ন, যেমন শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি বা নিস্তেজ হয়ে পড়া, চোখের মণি ঘোলা হয়ে আসে বা মুখের ভেতর গভীর ঘা থাকে, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। সেখানে শিশুকে আলাদা ওয়ার্ডে বা কেবিনে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে।

যদি হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর দৃষ্টি সমস্যা বা দেখতে অসুবিধা হয়, কিংবা চোখের মণি ঘোলা লাগে, তাহলে ১৪ দিনের মাথায় আরও একটা ভিটামিন এ ক্যাপসুল (মোট ৩টি) দিতে হবে।

আপনারও কি ঢাকায় পা রাখার অভিজ্ঞতা একই রকম

Read full story at source