ঈদের কেনাকাটা করতে বের হন, ছিনতাইকারীর হ্যাচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে মৃত্যু

· Prothom Alo

স্বামীকে নিয়ে দর্জির দোকানে গিয়েছিলেন মুক্তা আক্তার (২১)। কাপড় দিয়ে বাসায় ফিরে আবার বের হন শেষ মুহূর্তের কিছু কেনাকাটা করবেন বলে। কিন্তু সেই বের হওয়াই হয়ে গেল তাঁর ‘জীবনের শেষ যাত্রা’। রিকশায় করে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারী হঠাৎ ব্যাগ টান দিলে পড়ে যান মুক্তা। গুরুতর আহত মুক্তাকে কয়েক হাসপাতাল ঘুরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই দুপুরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় চলন্ত অটোরিকশায় বসে ছিলেন মুক্তা। হাউজবিল্ডিং মার্কেটের পথে, মেট্রোরেল স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় হঠাৎ একটি প্রাইভেটকার এসে কাছ ঘেঁষে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি থেকে হাত বাড়িয়ে তাঁর ব্যাগ টান দেয় ছিনতাইকারীরা।

Visit milkshake.it.com for more information.

ব্যাগের সঙ্গে টান খেয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়েন মুক্তা। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বাংলাদেশ মেডিকেল, পরে একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দুপুর পোনে দুইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বামী লিমন হোসেনের কাছে এখনো যেন সব দুঃস্বপ্নের মতো। সকালে একসঙ্গে বের হওয়া মানুষটি যে আর ফিরবেন না—এটা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। লিমন হোসেন বলেন, ‘সকালে আমরা একসঙ্গে দর্জির দোকানে গিয়েছিলাম। কাপড় দিয়ে বাসায় ফিরি। পরে ও বলে, কিছু জিনিস কিনে আসবে। আধা ঘণ্টা পর খবর পাই—ও আহত।’

মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনায়। স্বামীর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। উত্তরার আব্দুল্লাহপুরের ফায়দাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তাঁরা। ঈদের পরদিনই বরগুনায় বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল মুক্তার। সেই পরিকল্পনা নিয়েই বেশ কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

‘ও খুব খুশি ছিল। বলছিল, ঈদের পরদিন বাবার বাড়ি যাবে। সেই জন্যই কেনাকাটা করতে বের হয়েছিল’—বলতে বলতেই ভেঙে পড়েন লিমন। তারপর থেমে থেমে বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পুলিশের পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

Read full story at source