অভ্যাসেই বদলে যায় বয়সের গল্প

· Prothom Alo

আমাদের চারপাশেই এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের বয়স যেন শুধু কাগজেই বাড়ে—চেহারায়, এনার্জিতে বা জীবনযাপনে তার ছাপ খুব একটা পড়ে না। আবার কেউ কেউ অল্প বয়সেই ক্লান্ত, নিস্তেজ আর বয়সের ছাপ স্পষ্টভাবে বহন করেন। কেন এই পার্থক্য?


দীর্ঘায়ু ও সুস্থ বার্ধক্য নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ ভাসিলি এলিওপুলোস মনে করেন, বিষয়টি শুধুমাত্র জেনেটিক নয়—বরং আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসই ঠিক করে আমরা কেমনভাবে বয়স বাড়াব। তার ভাষায়, “জন্মতারিখ স্থির, কিন্তু শরীরের বয়স অনেকটাই নির্ভর করে জীবনযাপনের ওপর।”

Visit amunra.qpon for more information.

নিচে তুলে ধরা হলো এমন পাঁচটি অভ্যাস, যা নিয়মিত অনুসরণ করলে বয়স বাড়লেও তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব।

ঘুম—কোনোভাবেই অবহেলা নয়

ভালোভাবে বয়স বাড়াতে চাইলে ঘুমকে বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য প্রয়োজন হিসেবে দেখতে হবে। গভীর ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক নিজেকে পরিষ্কার করে, ক্ষতিকর উপাদান দূর করে। ঘুম কম হলে শরীরে প্রদাহ বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, এমনকি বয়স বাড়ার গতি ত্বরান্বিত হয়। যারা দীর্ঘদিন তরুণ থাকেন, তারা ঘুমের সঙ্গে কোনো আপস করেন না।

পেশী শক্তি বজায় রাখা

শরীরের পেশী শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি। ৩৫ বছর পার হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে পেশী কমতে থাকে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষ করে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং, পেশী ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে, হাড় মজবুত করে এবং শরীরকে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাখে।

প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা

দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহই অনেক বড় রোগের মূল কারণ—হৃদরোগ, ডায়াবেটিস কিংবা মস্তিষ্কের অবক্ষয়জনিত সমস্যা। তাই শুরু থেকেই খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে এমন পরিবর্তন আনতে হবে, যা শরীরের প্রদাহ কমায়। অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার এড়িয়ে, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

মেটাবলিজমকে সক্রিয় রাখা

অনেকেই সারাক্ষণ খাওয়া বা নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু সুস্থ শরীরের জন্য প্রয়োজন এমন একটি মেটাবলিজম, যা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্লুকোজ ও ফ্যাট—দুটিই ব্যবহার করতে পারে। মাঝেমধ্যে নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা (ফাস্টিং), কম প্রসেসড খাবার খাওয়া এবং শরীরকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া—এই অভ্যাসগুলো মেটাবলিজমকে শক্তিশালী করে।

অনুমান নয়, তথ্যের ওপর ভরসা

শরীর ঠিক আছে ধরে নেওয়া যথেষ্ট নয়—নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও জরুরি। কোলেস্টেরল, হরমোন, প্রদাহের মাত্রা, পুষ্টির ঘাটতি—এই বিষয়গুলো আগে থেকেই জানা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। যারা ভালোভাবে বয়স বাড়ান, তারা নিজেদের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেন।

সবশেষে একটি বিষয় স্পষ্ট—তারুণ্য ধরে রাখা কোনো একদিনের কাজ নয়। এটি আসে ছোট ছোট অভ্যাসের ধারাবাহিকতা থেকে। নিখুঁত হওয়া জরুরি নয়, তবে নিয়মিত হওয়াই আসল।

কারণ বয়স বাড়া থামানো না গেলেও, কীভাবে বয়স বাড়বে—সেটা অনেকটাই আমাদের হাতেই।

ছবি: এআই

Read full story at source