‘লাইনে দাঁড়ানোর সময় জানতাম না মাত্র ২০০ টাকার তেল দেবে’

· Prothom Alo

‘প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। পাম্পের কাছাকাছি এসে জানতে পারি, মাত্র ২০০ টাকার তেল দিচ্ছে। এটা তো হয় না।’ কথাগুলো বলছিলেন গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা মো. বাবুল হোসেন।

গত রোববার সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কিছু পাম্পে গ্রাহককে এখনো চাহিদামতো তেল দেওয়া হচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, ডিপো থেকে তাঁরা চাহিদানুযায়ী তেল পাচ্ছেন না।

Visit salonsustainability.club for more information.

বেলা একটার দিকে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল দেওয়া নিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে মোটরসাইকেলচালকদের তর্কবিতর্ক চলছে। চালকেরা নিজেদের চাহিদামতো তেল চাইছেন, কিন্তু কর্মচারীরা জানিয়ে দেন, ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব নয়।

জ্বালানি তেলের জন্য রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। ১৬ মার্চ ২০২৬

ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক মো. বাবুল হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তিনি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় পর পাম্পের কাছাকাছি এসে জানতে পারেন, ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়েই চালকদের সঙ্গে বিক্রেতাদের বচসা হচ্ছে।

অন্য ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদামতো তেল দিলেও তাঁরা কেন দিচ্ছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমরা তো তেল পাই না, কীভাবে আনলিমিটেড দেব? ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না। সে জন্যই সবাইকে কম কম করে দিচ্ছি।’

রমনা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন এক মোটরসাইকেলচালক। ১৬ মার্চ ২০২৬

বেলা দেড়টায় দৈনিক বাংলার মোড়ে ‘বিনিময় ফিলিং স্টেশনে’ গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তেল নেই। পাম্পের কর্মচারী মো. সাগর জানান, দুপুর ১২টাতেই তাঁদের তেল শেষ হয়ে গেছে। গ্রাহকদের কত লিটার করে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগের মতোই মোটরসাইকেলে ৫ লিটার ও প্রাইভেট কারে ১০ লিটার করে দিয়েছি।’ রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়ার বিষয়ে এই কর্মচারী জানান, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় গ্রাহকদেরও তাঁরা চাহিদামতো তেল দিতে পারছেন না।

তবে মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স, মৎস্য ভবন মোড়ের রমনা ফিলিং স্টেশন এবং পরিবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টার ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের চাহিদামতোই তেল দিতে দেখা যায়।

তেল না থাকায় দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের কোনো ভিড় নেই, অলস সময় পার করছেন পাম্পের কর্মীরা। ১৬ মার্চ ২০২৬

ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের মালিক আবদুস সালামও। তিনি বলেন, ‘আমরা তো ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না। যতটুকু পেয়েছি, তা অনেক কম। এরপরও সবাইকে আনলিমিটেড তেল দিচ্ছি। তবে মনে হচ্ছে, সন্ধ্যার আগেই এই তেল শেষ হয়ে যাবে। তখন আর বিক্রির সুযোগ থাকবে না।’

Read full story at source