দিনাজপুরে জামাতা হত্যার অভিযোগে শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

· Prothom Alo

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জামাতা তোজাম্মেল হোসেনকে (৩২) হত্যার অভিযোগে তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শনিবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

Visit lej.life for more information.

শুক্রবার রাতে হত্যার ঘটনায় পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। এ ঘটনায় নিহত তোজাম্মেলের স্ত্রী মনিরা খাতুনকে (২৪) গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

১২ মার্চ উপজেলার বৈরাগী শ্মশানঘাটের একটি আমগাছ থেকে তোজাম্মেল হোসেনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে শ্বশুর-শাশুড়িসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশের একটি দল দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তোজাম্মেল হোসেন তাঁকে তালাক দেন। এরপর দুই বছর আগে মনিরা খাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রায় তিন বছর আগে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের বিরামপুর শাখা থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তোজাম্মেলের মা মনোয়ারা বেগম পাঁচ বিঘা জমি বন্ধক নেন। প্রায় এক মাস আগে সেই জমি ছাড়িয়ে নিয়ে তোজাম্মেল তাঁর ভাইকে সমানভাবে পাঁচ লাখ টাকা দেন।

তোজাম্মেল তাঁর অংশের পাঁচ লাখ টাকা পার্বতীপুর উপজেলায় জমি বন্ধক নেওয়ার জন্য শ্বশুর মোকছেদুল হক ও শাশুড়ি মর্জিনা বেগমের কাছে দেন। তবে ওই টাকা দিয়ে জমি বন্ধক না নেওয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী রাগ করে বাবার বাড়ি চন্ডিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে চলে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১১ মার্চ সন্ধ্যায় তোজাম্মেল হোসেনকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ১২ মার্চ রাতে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে আমগাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

পার্বতীপুর ভবানীপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবশেষে অভিযুক্ত শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

Read full story at source