সালমান আগার রান আউটের ঝাঁজ কি সিরিজ জয়ের ম্যাচে
· Prothom Alo

দুই দলের কেউই অনুশীলন করবে না, আগের রাতেই তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবু কাল মিরপুরে একাডেমি মাঠে তুমুল ব্যস্ততা, জাতীয় দলকে ঘিরে অবশ্য তা নয়। অনুশীলন করছিলেন টেস্ট সংস্করণে নিয়মিত মুখ, এমন কয়েকজন ক্রিকেটার। আগের তিন দিনে দুই ম্যাচ খেলার ধকল তো আছেই, পরদিনই আবার ম্যাচ থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা গতকাল মাঠে আসেননি।
ব্যতিক্রম নাজমুল হোসেন। ক্রিকেটারদের কেউ প্র্যাকটিস করতে এলে তাঁর সঙ্গে কোচিং স্টাফদেরও আসতে হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে একাডেমি মাঠে ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করে ব্যাটিং করেছেন নাজমুল। তাঁর বাড়তি এই তাড়নাটা বোধ হয় সাম্প্রতিক ফর্মের কারণেই— ওয়ানডেতে যে সর্বশেষ ১১ ইনিংসে কোনো ফিফটি নেই!
Visit asg-reflektory.pl for more information.
শুধু নাজমুলকে আলাদা করে নেওয়াটা অবশ্য অন্যায় হবে। ওয়ানডেতে পুরো বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংই এখন হয়ে দাঁড়ি্য়েছে বড় দুশ্চিন্তা। মাঝখানে তো পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারাটাই যেন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যা কিছুটা কেটেছিল ঘরের মাঠে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। গত পরশু আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৩২ ওভারে ২৪২ রান তাড়া করতে নেমে ২৩.২ ওভারেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচে অবশ্য রান তাড়া করার ব্যাপারা ছিল। যদিও গত বছর দুয়েকের রেকর্ড বলছে, পরে ব্যাটিং বা আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের দৈন্যদশাটা খুব একটা বদলায় না। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া ওয়ানডে ক্রিকেটে তিন শ রান যেখানে মোটামুটি নিয়মিত ঘটনাই হয়ে গেছে, সেখানে সর্বশেষ যে ৯ ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৫০ রানের চেয়ে বেশি রান তাড়া করতে হয়েছে, জয় এসেছে তার মাত্র দুটিতেই।
মিরাজের করা রান আউট মানতে পারছিলেন না সালমান আগাআজ সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ তাই মাঠে নামবে ব্যাটিং নিয়ে এই দুশ্চিন্তাকে সঙ্গী করেই। সিরিজের প্রথম ম্যাচ মুদ্রার দুই পিঠই দেখিয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে শেষ করে দিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেরাই অলআউট হয়ে গেছে ঠিক ১১৪ রানেই। তৃতীয় ম্যাচের আগে তাই কোনো দলকেই এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এমনিতেই সিরিজ–নির্ধারক ম্যাচ, তার ওপর পরশু দ্বিতীয় ম্যাচে সালমান আগার রানআউট নিয়ে বিতর্ক বেশ ঝাঁজালোই করে তুলেছে আবহটাকে।
মেহেদী হাসান মিরাজ তাঁকে যেভাবে আউট করেছেন, তা ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের’ বিরুদ্ধ বলে দাবি সালমানের। পাল্টা প্রশ্ন ছুটে গেছে তাঁর দিকে—‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’ আগে নাকি ক্রিকেটের আইন? সালমান উত্তরটা নিশ্চয়ই আপনি অনুমান করে নিতে পারছেন। তবে রানআউটের ঘটনায় তিনি শাস্তিটা পেয়েছেন আইন অনুযায়ীই, হেলমেট ও গ্লাভস ছুড়ে মারায় জুটেছে তিরস্কার, সঙ্গে নামের পাশে এক ডিমেরিট পয়েন্ট।
মজার ব্যাপারই বলতে হবে, এমন একটা বিতর্কে বাংলাদেশ দলের দৃষ্টিভঙ্গিটা কি না জানতে হয়েছে এক পাকিস্তানির কাছে! পরশুর ম্যাচ শেষ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ যেমন মিরাজের করা রান আউটে ‘অন্যায়’ কিছু দেখেন না। টিভি সম্প্রচারকদের বাড়িয়ে দেওয়া মাইক্রোফোনের সামনে লিটন দাস পাকিস্তান দলকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ, চ্যারিটি লিগ নয়!
দ্বিতীয় ম্যাচশেষে হাত মেলাচ্ছেন দুই দলের ক্রিকেটাররাসিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ যখন, এমনিতেই তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তা আরেকটু বাড়ছে অন্য আরেকটা হিসাবনিকাশের কারণে। এখন র্যাঙ্কিংয়ের দশে থাকা দলের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে হলে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে অন্তত সেরা নয়ে থাকতে হবে। এই সিরিজ জিতলে আপাতত সেই নয়ে উঠে যাবে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে মিরপুরে যে ‘স্পোর্টিং’ উইকেট দেখেছেন, তা সেটি মাথায় রেখেই। মুশতাকের আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানিয়েও গেছেন। আজও উইকেটের চরিত্রে বদলের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। উইকেট না বদলালেও হারের ধাক্কায় বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের সর্বশেষ ওয়ানডেতে ম্যাচ–সেরা হয়েও বাইরে বসে থাকা সৌম্য সরকার সুযোগ পেতে পারেন আজ। পেস বোলিংয়ে কাউকে বিশ্রাম দিতে চাইলে সুযোগ পেতে পারেন শরীফুল ইসলামও।
তবে জিততে হলে বাংলাদেশের মন্ত্রটা কী হবে, তা মুশতাকই ভালো বলেছেন, ‘আমাদের হারটা ভুলে যেতে হবে। নিজেদের খেলায় যতটা সম্ভব উন্নতি করতে হবে। আর বিশ্বাস করতে হবে সিরিজটা আমরা জিততে পারি।’
গ্লাভস-হেলমেট ছুড়ে মারায় শাস্তি পেলেন সালমান