হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজল বইমেলার বই
· Prothom Alo

অমর একুশে বইমেলা শেষের দিকে। আগামীকাল রোববার শেষ হওয়ার কথা বইমেলা। তবে গতকাল শুক্রবার হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন বইমেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশক ও বিক্রেতারা।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
গতকাল রাত ৮টার দিকে অমর একুশে বইমেলায় হঠাৎ করে শুরু হয় ঝড়বৃষ্টি। সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টিও। বৃষ্টির পানি স্টলগুলোর ভেতরে ঢুকে পড়লে বিপাকে পড়েন বিক্রেতারা।
আজ শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ভিজে যাওয়া বইগুলো রোদে শুকাতে দিচ্ছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা।
বৃষ্টিতে বইমেলার বড় স্টল তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলে ছোট স্টলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিশুদের জন্য গবেষণাধর্মী, আনন্দদায়ক এবং উচ্চমানের অ্যাকটিভিটি, গল্প ও শেখার বই বিক্রি করে গুফু পাবলিকেশন। গতকালের বৃষ্টিতে এই প্রকাশনের স্টলে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বই ভিজে গেছে বলে জানান বিক্রয়কর্মী মো. সুলতান।
বইমেলায় ভেজা বইগুলো প্লাস্টিকে মুড়ে রাখা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে বইমেলায়সকালে গুফি প্রকাশনের স্টলে একদিকে ক্রেতাদের বই দেখাচ্ছিলেন, অন্যদিকে বই শুকাতে দিচ্ছিলেন মো. সুলতান। তিনি বলেন, এমনিতেই এ বছর বিক্রি কম। এতে ক্ষতির মুখে বই প্রকাশক ও বিক্রেতারা। এর ওপর বৃষ্টিতে ক্ষতির পরিমাণটা বাড়িয়ে দিল।
শিশুদের সিঙ্গাপুর ম্যাপ, গল্পের সিরিজ, আর্ট খাতা বর্ণ শেখার ফ্লাশ কার্ডসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভিজে গেছে। মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এগুলো আর বিক্রি হবে কি না বুঝতে পারছেন না মো. সুলতান।
বিক্রয়কর্মী জুবায়ের আহমেদ বলেন, থ্রিলার ধরনের বই বিক্রি প্রতিষ্ঠান বিবলিওফাইলের স্টলে থাকা ১৫০টির বেশি বই ভিজেছে। তিনি বলেন, এগুলো হয়তো সহজে বিক্রি হবে না। বিক্রি হলেও অনেক লোকসানে বিক্রি করতে হবে। আবার এমনও হতে পারে এই বই আর বিক্রিই হবে না। কারণ, মলাট সুন্দর না থাকলে ক্রেতারা বই কিনতে চায় না।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্টলগুলো মেরামত করা হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে বইমেলায়আদী প্রকাশনের স্টলে গিয়ে দেখা যায় স্টলের বিক্রয়কর্মীরা ভেঙে যাওয়া স্টল মেরামত করছিলেন। তাঁরা জানান গতকাল রাতের বৃষ্টিতে সিলিং ভেঙে পড়ে স্টলে থাকা বণিক শাহরিয়ার নামের একজন লেখকও আহত হয়েছেন।
আদী প্রকাশনের সহকারী ব্যবস্থাপক সুজন আহমেদ বলেন, দুই শর বেশি বই ভিজে গেছে। এগুলো বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বাতাসের মুখে থাকায় স্টল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা বাতাসের মুখে ছিল না তাদের ক্ষতি কম হয়েছে। ভিজে যাওয়া বই বাংলাবাজারে মূল কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ ছিল বইমেলার ষষ্ঠ ও শেষ শিশুপ্রহর। শিশুপ্রহরে রাজধানী বিভিন্ন স্থান থেকে বই কিনতে আসে শিশুরা। কেউ মা–বাবা, কেউ পরিবারের বড়দের সঙ্গে।
ঝড়ে ছোট স্টলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে বইমেলায়আজ বেলা ১১টায় মেলার দ্বার খোলে। শিশুপ্রহর থাকে বেলা ১টা পর্যন্ত। এরপর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকে সবার জন্য। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গ্রন্থানুরাগীরা মেলায় আসেন।
রাজধানীর বাড্ডা থেকে মেলায় বাবার সঙ্গে এসেছে নুসরাত নিহা। সে কৌতুক আর গল্পের বই কিনতে চায়। বলে, গল্পের বই বেশি মজার। আর ম্যাজিক বই কিনব।
নিহার বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আরও একদিন এসেছে নিহা। সেদিন পাপেট শো দেখেছে। বইও কিনেছে। আগামীকাল মেলা শেষ হয়ে যাবে। তাই শেষবারের মতো নিয়ে এসেছি।’
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্টল। আজ শনিবার সকালে বইমেলায়শিশুপ্রহরে শিশুদের আনন্দ উদ্যাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের মঞ্চ। শুক্রবার রাতের বৃষ্টির পর সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। মেলা প্রাঙ্গণে বিদ্যুৎ ছিল না। দুপুর সাড়ে ১২টার পর মেলায় পাপেট শো শুরু হয়।