গুজব ও ভুয়া খবর এভাবেই আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে
· Prothom Alo
![]()
এই ডিজিটাল যুগে তথ্য ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু সব তথ্য কি সত্য? গুজব, গসিপ বা পরচর্চা ও ভুয়া খবর আজ আমাদের সামাজিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Visit lebandit.lat for more information.
গুজব হলো এমন কোনো তথ্য বা দাবি, যার সত্যতা নিশ্চিত নয়। এটি সত্যও হতে পারে, মিথ্যাও হতে পারে, কিন্তু যাচাই ছাড়া তা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে গসিপ বা পরচর্চা হলো কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা বা গল্প করা, যা অনেক সময় অতিরঞ্জিত বা ভিত্তিহীন হয়। আর ভুয়া খবর (ফেক নিউজ) হলো ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য, যা সত্যের ছদ্মবেশে প্রচার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুজব ছড়ানোর বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কেউ একটি অপ্রমাণিত তথ্য শেয়ার করলে অন্যরা না ভেবেই তা ছড়িয়ে দেন। ফলে ভুল তথ্য দ্রুত ‘সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুজব ছড়ানোর বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছেমানসিক ও শারীরিক প্রভাব
অনেকে মনে করেন, গসিপ ও গুজব নিরীহ ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব গভীর হতে পারে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: নেতিবাচক বা আতঙ্কজনক খবর বারবার শুনলে মানসিক চাপ বাড়ে।
আত্মসম্মানবোধে আঘাত: কারও সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ালে তিনি অপমানিত, বিচ্ছিন্ন বা হতাশ বোধ করতে পারেন।
সম্পর্কের অবনতি: ভুল–বোঝাবুঝি ও অবিশ্বাস তৈরি হয়ে বন্ধুত্ব বা পারিবারিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাইবার বুলিং: অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে কাউকে হেয় করা হলে তা মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এমনকি এ রকম বুলিং থেকে কেউ নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথাও ভাবতে পারেন।
দীর্ঘ মেয়াদে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, এমনকি শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। দুশ্চিন্তা রোগ, বিষণ্নতা, প্যানিক অ্যাটাক ও পিটিএসডির মতো মানসিক রোগ এগুলো থেকে হতে পারে।
কোনো খবর দেখেই শেয়ার করবেন না। বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত হোনকরণীয়
গুজব ও ভুয়া খবরের ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—
১. তথ্য যাচাই করুন: কোনো খবর দেখেই শেয়ার করবেন না। বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত হোন।
২. শেয়ার করার আগে ভাবুন: তথ্যটি কারও ক্ষতি করতে পারে কি না, তা বিবেচনা করুন।
৩. নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলুন: কেউ আপনার সম্পর্কে গুজব ছড়ালে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া না দিয়ে শান্ত থাকুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।
৪. ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ান: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলুন এবং অন্যকেও উৎসাহিত করুন।
গুজব ও গসিপ হয়তো ক্ষণিকের কৌতূহল মেটায়, কিন্তু এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই তথ্য গ্রহণ ও প্রচারে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা আমাদের সবার কর্তব্য। মনে রাখতে হবে, একটি ভুল শেয়ার কারও জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সচেতন হোন, যাচাই করুন, তারপরই বিশ্বাস বা প্রচার করুন।
দেখুন রাশমিকা–বিজয়ের বিয়ের ১১টি ছবি