মস্তিষ্ক তরুণ রাখার ৫ কৌশল

· Prothom Alo

শৈশবে আমাদের মস্তিষ্ক খুব দ্রুত কাজ করে। তখন নিউরনের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হয়। জীবনের প্রথম কয়েক বছরে প্রতি সেকেন্ডে লাখ লাখ স্নায়ু-সংযোগ গড়ে ওঠে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গতি কমে যায়, নিউরনের মধ্যে তখন আর নতুন সংযোগ হয় না এবং মস্তিষ্ক তখন ধীরগতিতে কাজ করে। এমন কিছু অনুশীলন আছে, যেগুলো নিয়মিত চর্চা করলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকবে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

মস্তিষ্ক ভালো রাখতে মনকে সক্রিয় রাখুন

শরীর শক্ত রাখতে যেমন ব্যায়াম করার প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্ক ভালো রাখতে মনকে সক্রিয় রাখা জরুরি। পড়াশোনা, কাজ, সামাজিকতা ও শখের চর্চা ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ গড়ে তোলে, যা মস্তিষ্ককে নতুন পথ খুঁজে নিতে সাহায্য করে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়। কগনিটিভ রিজার্ভ হলো মস্তিষ্কের সেই ক্ষমতা, যা আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষতির বিরুদ্ধে জ্ঞানগত কাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
চলুন, মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন তরুণ রাখার আরও পাঁচটি কার্যকর উপায় জেনে নেওয়া যাক-

২০২৬ সালে যেসব ব্যবসা আরও লাভজনক হতে পারে

১. নতুন কিছু শেখার জন্য কখনোই দেরি করবেন না

বাগান করা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে

প্রত্যেক মানুষের জন্য ‘জ্ঞানগত স্বাস্থ্য’ খুব গুরুত্বপূর্ণ। জ্ঞানগত স্বাস্থ্য হলো যুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধান করা, মনোযোগ ধরে রাখা এবং দ্রুত তথ্য বোঝার ক্ষমতা।
বয়সের সঙ্গে এগুলো কিছুটা ধীর হতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি কমে যায় না। স্কটল্যান্ডের হেরিয়ট-ওয়াট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী অ্যালান গাও ম‌নে ক‌রেন, ‘জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে আমরা মস্তিষ্ককে ভালো রাখতে ও শক্তিশালী করার সুযোগ পাই।’ নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে আমরা জ্ঞানগত স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারি। যেমন ধরেন বাগান করা। কারণ, এটা মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাগান করা জ্ঞানগত ক্ষমতা সংরক্ষণে সাহায্য করে। আবার নতুন ভাষা শিখতে পারেন। এসব চর্চা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে সক্রিয় করে এবং আলঝেইমারের লক্ষণ দেখা দিতে গড়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত দেরি করাতে পারে।

দীর্ঘদিন সংসার করলে কি স্বামী-স্ত্রীর চেহারা একরকম হয়ে যায়

২. মস্তিষ্কের জন্য সঠিক খাবার প্রয়োজন

ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে

দীর্ঘদিন ভালোভাবে বাঁচতে চাইলে সুষম খাবার খাওয়া খুবই জরুরি—এ কথা বহু গবেষণায় প্রমাণিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আঁশ (ফাইবার) মস্তিষ্কের জন্য খুব উপকারী। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যাঁরা নিয়মিত খেয়েছেন, তিন মাস পর তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত হয়েছে।
শরীরে চর্বিরও প্রয়োজন আছে। ওমেগা-৩-সমৃদ্ধ মাছ এবং আখরোটে থাকা ভালো চর্বি (পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট) মস্তিষ্কের জন্য উপকারী এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন ডিম খাওয়াও উপকারী। ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। কোলিনের ঘাটতি হলে পারকিনসনস রোগ ও আলঝেইমারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৩. ব্যায়াম শরীর ও মন দুটিই ভালো রাখে

প্রতিদিন ভারী ব্যায়াম করা সম্ভব না হলে হালকা ব্যায়াম করুন। আর হালকা ব্যায়ামও যদি না পারেন, তাহলে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সে নিয়মিত ব্যায়ামকারীদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। ব্যায়াম মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোকে শক্তিশালী করে, যা আলঝেইমারের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ব্যায়াম মন ভালো রাখে এবং বিষণ্নতা কমায়।

বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা বা দেখা করা, মানসিক শক্তি বাড়ায়, যা মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে

৪. বন্ধুদের সময় দিন

সামাজিক সম্পর্ক আমাদের আয়ু ও সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সামাজিক সংযোগকে ‘বিশ্বজনীন স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া বা দেখা করা, ভ্রমণে যাওয়া কিংবা নতুন কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়া—এসবই মানসিক শক্তি বাড়ায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সঠিকভাবে প্রশ্ন করা এবং নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলে সম্পর্ক আরও গভীর ও দৃঢ় হয়। একে বলা হয় ‘পারস্পরিক আত্ম-উন্মোচন’।

৫. নিজের আচরণে ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন

হালকা ব্যায়াম করতে না পারলেও হাঁটার অভ্যাস করুন

আমাদের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা হলো—ভালো থাকতে হলে বড় বড় পরিবর্তন দরকার। কিন্তু গবেষণা বলছে, ছোট কিন্তু নিয়মিত পরিবর্তনই সবচেয়ে কাজে দেয়। বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে ফিনল্যান্ডের ঐতিহাসিক ফিঙ্গার স্টা‌ডিতে (ফি‌নিশ জে‌রিয়া‌টিক ইন্টার‌ভেনশন স্টাডি)। ৬০ থেকে ৭৭ বছর বয়সী ১ হাজার ২৬০ জনকে দুই দলে ভাগ করা হয়। একদল দুই বছর ধরে খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক প্রশিক্ষণ ও সামাজিক কার্যক্রমের সমন্বয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। অন্য দলটি ছিল নিয়ন্ত্রণ দল, যারা সাধারণ স্বাস্থ্য পরামর্শ পেয়েছিল।

যাঁরা দুই বছর ধরে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও মানসিক প্রশিক্ষণের সমন্বিত কর্মসূচিতে অংশ নেন, তাঁদের জ্ঞানগত উন্নতি নিয়ন্ত্রণ দলের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি ছিল।
অর্থাৎ জীবনে ‘ম্যাজিক সমাধান’ বলতে কিছু নেই। বরং ছোট ছোট পরিবর্তন যেমন ভালো খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, নতুন কিছু শেখা এবং সামাজিক সম্পর্ক দীর্ঘ মেয়াদে বড় প্রভাব রাখে। তাই দীর্ঘদিন ভালোভাবে বাঁচতে জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন।

সূত্র: বিবিসি

সুইজারল্যান্ডে প্রতি ৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন কোটিপতি, ধনী হওয়ার সুইস সূত্রগুলো জানুন

Read full story at source