স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি অর্গ্যানিক খাবারের রেস্তোরাঁ অঙ্কুর যেখানে খাবারই ওষুধ

· Prothom Alo

খাবারের মাধ্যমেই মানুষকে সুস্থ রাখার এক অনন্য উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি অর্গ্যানিক খাবারের রেস্তোরাঁ  ‘অঙ্কুর’, যেখানে খাবারই ওষুধ
বিজ্ঞান বলছে, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘস্থায়ী নানা রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

Visit chickenroadslot.pro for more information.

এখানে তেল, চিনি, ময়দা, সাদা লবণ ব্যবহার করা হয় না। বেশিরভাগ খাবার সেদ্ধ বা হালকা প্রক্রিয়ায় তৈরি

খাবারের মাধ্যমেই মানুষকে সুস্থ রাখার এক অনন্য উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি অর্গ্যানিক খাবারের রেস্তোরাঁ  ‘অঙ্কুর’, যেখানে খাবারই ওষুধ
বিজ্ঞান বলছে, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘস্থায়ী নানা রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

যে জমিতে কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার হয় না, অন্য কোনো দূষণও যার কাছে পৌঁছায় না, সেখান থেকেই আসে সবজিসুস্বাদু খাবারের সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতার সমন্বয়ে ‘অঙ্কুর’ সুস্থ যাপনের এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা

অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়ন্ত্রিত খাবার ক্রনিক অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, বাড়িয়ে তোলে মৃত্যুহারও। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ‘অঙ্কুর’ রেস্তোরাঁ খাবারকেই পথ্য হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস চালাচ্ছে। পুষ্টিকর, সুষম ও সচেতন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা। সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতার সমন্বয়ে ‘অঙ্কুর’ সুস্থ যাপনের এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।


শহরের কোলাহল পেরিয়ে এক ভিন্ন স্বাদের ঠিকানা হয়ে উঠছে ‘অঙ্কুর’। এখানে খাবার মানেই কেবল পেট ভরানো নয়, বরং শরীর, মন আর জীবনের ভালোর দিকে ফিরে দেখার এক সচেতন প্রচেষ্ট। বিষমুক্ত জমিতে চাষ করা শাকসবজি, প্রায় তেল-মসলাবিহীন রান্না, আর প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি খাবার- এই দর্শন নিয়েই পথচলা অঙ্কুরের।

অঙ্কুরে বিশেষ স্মুদি তৈরি হয় নিজেদের উৎপাদিত টক দই ও প্রোবায়োটিক উপাদান দিয়ে

আর এই উদ্যোগের পেছনে আছেন কৃষক হেলাল হেদায়তুল ইসলাম। নিজের সুস্থতা আর পরিবারকে রোগমুক্ত রাখার লক্ষ্য থেকেই শুরু করেছিলেন প্রাকৃতিক চাষাবাদ। পরে দেখলেন, ক্রেতারা সেই সবজি কিনে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভুল প্রক্রিয়ায় রান্না করায় খাবারের আসল উপকারিতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকেই আসে রেস্তোরাঁর ভাবনা। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গড়ে উঠেছে এই রান্নার পদ্ধতি। এখানে তেল, চিনি, ময়দা, সাদা লবণ ব্যবহার করা হয় না। বেশিরভাগ খাবার সেদ্ধ বা হালকা প্রক্রিয়ায় তৈরি, যাতে উপাদানের স্বাভাবিক স্বাদ ও গুণ বজায় থাকে।

নাহিদ পারভিন, যিনি হেঁশেলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন, তিনি বলেন, এই রান্নার শুরুটা আসলে জমি থেকে। যে জমিতে কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার হয় না, অন্য কোনো দূষণও যার কাছে পৌঁছায় না, সেখান থেকেই আসে সবজি। শীতকালের নানা রকম সবজি, অনেক অচেনা শাক, এমনকি বেগুনি রঙের মিষ্টি আলুর মতো বিরল উপাদানও রান্নায় নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। এসব সবজি দিয়ে তৈরি হয় সালাদ আর ম্যাশ করা শাকসবজি মিশিয়ে বানানো হয় জবের আটার রুটি। রান্নায় তেল নেই, ভারী মসলা নেই শুধু পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতার মতো স্বাভাবিক উপাদান। তাঁর ভাষায়, “এখানে খেলে তবেই বোঝা যায় তেল-মসলা ছাড়াও খাবার কত সুস্বাদু হতে পারে।”

ডানে পুষ্টিবিদ শহিদ আহমেদ ও বায়ে কৃষক হেলাল হেদায়তুল ইসলামপুষ্টিবিদ শহিদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে এসব খাবার পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন রোগীর ঘরে


অঙ্কুরে বিশেষ স্মুদি তৈরি হয় নিজেদের উৎপাদিত টক দই ও প্রোবায়োটিক উপাদান দিয়ে। পুষ্টিবিদ শহিদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে এসব খাবার পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন রোগীর ঘরে। বিশেষ করে ক্যানসার রোগীদের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুত করা হয় কিছু নির্দিষ্ট খাবার। বাড্ডা, গুলশানসহ আশপাশের এলাকায় রয়েছে নিয়মিত সরবরাহ ব্যবস্থা।
সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা থাকে অঙ্কুর।

সপ্তাহে দুই দিন সকালে এখানে ইয়োগা সেশন পরিচালনা করেন যোগ প্রশিক্ষক আশিস অধিকারী, যিনি শুরু থেকেই অঙ্কুরের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মতে, সুস্থতা কেবল শারীরিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানসিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সুস্থতাও সমান জরুরি।

তিনি বলেন, “আমাদের অনেককেই বাইরে থেকে ফিট দেখায়, কিন্তু ভেতরে ভীষণ ক্লান্ত। যোগব্যায়াম আর প্রাকৃতিক খাবার—এই দুইয়ের সমন্বয়ই মানুষকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে।”

ছবিঃ হাল ফ্যাশন

Read full story at source