শহীদ মিনারে জামায়াত আমির বললেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এসেছি’
· Prothom Alo

ভাষাশহীদ দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাখ্যায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রাচারের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করেছেন তিনি।
Visit hilogame.news for more information.
ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শনিবার প্রথম প্রহরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তাঁর এ কর্মসূচির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। কারণ, জামায়াতে ইসলামী কখনো শহীদ মিনারে ফুল দিতে যায়নি। দলটির নেতারা এটাকে ‘অনৈসলামিক’ বলতেন, সে কথাও কেউ কেউ লেখেন ফেসবুকে।
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকেরা এ নিয়ে প্রশ্ন করেন জামায়াতের আমির শফিকুরকে। আগে কখনো আসেননি, কী মনে করে প্রথমবার ফুল দিতে এলেন—এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে…এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমাকে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে। তাই আমি এসেছি।’
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত। তাদের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মোট আসন ৭৭টি। শফিকুর এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর কিছু সময় পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দেন শফিকুর রহমান।
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন নেতা। ফুল দেওয়ার পর শহীদ মিনারে দাঁড়িয়েই ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন তাঁরা।
এরপর শহীদ মিনার ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন জামায়াত আমির। শুধু ভাষাশহীদ নয়, বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদ সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলেন তিনি।
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের গ্রেপ্তার ৮ভাষাশহীদ দিবসে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর মোনাজাতে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শফিকুর বলেন, ‘আমরা আসলে ভাষাশহীদের আগে ৪৭-এ (পাকিস্তান সৃষ্টি) যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি, বায়ান্নর শহীদদের স্মরণ করি, একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি। ৯০-এর গণ–অভ্যুত্থানে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করি, সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, বিশেষ করে যাঁরা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করি। শেষ পর্যন্ত আমাদের ওসমান হাদিকে আমরা স্মরণ করি।’
ভাষাশহীদ দিবসে জামায়াতের শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার কোনো কর্মসূচি আগে কখনো ছিল না। এবারও দলীয়ভাবে নেই। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শফিকুর রহমানের শহীদ মিনারে যাওয়ার কথা দলটির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল।
জামায়াতের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছিল, ‘আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২:০১ মিনিটে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে” জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাবেন।’
জামায়াত কি এখনো ফুল দেওয়া নাজায়েজ মনে করে, শহীদ মিনারে এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে শফিকুর রহমান পাল্টা বলেন, ‘এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন আজকে করছেন?’
এরপর জামায়াত আমির আর কোনো প্রশ্ন না নিয়ে শহীদ মিনার ছেড়ে যান।